ইতালিকে উড়িয়ে ফিনালিসিমার শিরোপা আর্জেন্টিনার

২৩

লিওনেল মেসিকে ঘিরে ধরেছেন জর্জো কিয়েল্লিনিসহ ইতালির চারজন খেলোয়াড়। জাদুকরকে আটকাতে তাঁর জার্সিও টেনে ধরেছেন কিয়েল্লিনি। ম্যাচজুড়ে এমন অনেক ছবিই দেখা যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসিকে আটকাতে পারেননি কিয়েল্লিনি। আটকাতে পারেননি তার দল আর্জেনটিনাকেও। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতালিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে লা ফিনালিসিমার শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা।

এদিন ইতালির জমাট রক্ষণের কড়া পাহারা ভেদ করে বারবারই বেরিয়ে যাচ্ছিলেন মেসি। ১৫ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে তিন-তিনবার ইতালির রক্ষণ ভেদ করে বেরিয়ে যান তিনি। কিন্তু গোল পাননি বা অন্য কাউকে দিয়ে গোল করাতেও পারেননি। অবশেষে ২৭ মিনিটে সফল হলেন জাদুকর। ইতালির পেনাল্টি বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে রক্ষণচেরা এক পাস দিলেন লাউতারো মার্তিনেজকে। ডান পায়ের আলতো ছোঁয়ায় আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিতে ভুল করলেন না মার্তিনেজ।

এরপর ৪৪ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের অসাধারণ এক থ্রু পাস থেকে ডি মারিয়ার গোলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এই গোলটি যেন আরেকটি কথাও বলতে চেয়েছে, এই আর্জেন্টিনা শুধু একা মেসির ওপর নির্ভরশীল নয়।

২-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করা আর্জেন্টিনা যেন ইতালিকে আরও চেপে ধরলো। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব উতরাতে না পারা ইতালি, এ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর যে সংকল্প নিয়ে এসেছিল, তা কোনো পাত্তাই পেল না আর্জেন্টিনার দারুণ ফুটবলের কাছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে ইতালিকে রীতিমতো বিপর্যস্ত করে ফেললেন মেসিরা।

ম্যাচে মেসি দেখা দিয়েছেন মেসির রূপে। তবে আলাদা করে নজর কেড়েছেন ডি মারিয়া। ইতালির রক্ষণভাগে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছেন তিনি। মেসি, ডি মারিয়াদের আক্রমনে আর্জেন্টিনার আরেকটি গোল পাওয়াকে মনে হচ্ছিল শুধুই সময়ের ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মেসির পাস থেকে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা পাওলো দিবালা।

কোপা আমেরিকার পর লিওনেল মেসির হাতে আরেকটি ট্রফি। মাস কয়েক পরের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিশ্চিতভাবেই বড় কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে।