উৎপাদন ভাল হওয়ায় করোনাকালেও খাদ্যসংকট হয় নি: কৃষিমন্ত্রী

৫৪

উৎপাদন ভাল হওয়ায় করোনাকালেও দেশে খাদ্যসংকট হয় নি বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, প্রমাণ হয়েছে আমরা খাদ্যে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ।

আজ রোববার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষ থেকে অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত আউশ আমনে বন্যার কারণে উৎপাদন কম হওয়ায় চালের দাম কিছুটা বেশি ছিল; স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের কিছুটা কষ্ট হয়েছে। কিন্তু করোনা মহামারি সত্ত্বেও দেশে এমনটা হয় নাই যে, বাজারে গিয়ে চাল পাওয়া যায় নি। দেশে চালের উৎপাদন ভাল হওয়াতেই সংকট দেখা দেয় নি।

তিনি বলেন, এ বছর চালের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বেশি জমি চাষের আওতায় আনা ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। ফলে, গত বছরের তুলনায় এবছর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এছাড়া, প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের আবাদ বেড়েছে। বর্ধিত এরিয়া ও হাইব্রিড জাতের চাষ, দুটি মিলে আমরা আশা করছি গত বছরের তুলনায় ১০-১২ লাখ টন চাল উৎপাদন বেশি হবে। মাঠ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতেও দেখছি চাষিরা ভাল ফলন পেয়েছে, তারা খুশি। ধানের দামও ভাল । আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল । গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। বন্যা না হলে এবার আউশেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এছাড়া আগামী আমনে উৎপাদন বৃদ্ধিতেও পূর্বপ্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের আরএডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৮২টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৫৯%, যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৪৯%।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

You might also like