‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ শিরোনামের অমর গানটি সৃষ্টির পেছনের গল্প

১২১

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…। বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে জুড়ে আছে হৃদয়মথিত এই গান। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মায়ের মুখের ভাষায় কথা  বলার অধিকার আদায়ের জন্য হৃদয়ে যে তাড়না জন্ম নিয়েছিলো। সেই আবেগের বন্ধনে এই গানের শব্দমালা ও সুর সৃষ্টি হয়েছিলো।

শব্দ আর সুরের ছায়াতলে প্রতিটি আত্মচিৎকার এই গানেই আবদ্ধ হয়েছিলো। বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এই গানেই বিস্তৃতি পেয়েছিলো পরিপূর্ণভাবে। একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে সারাদেশে যত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, তার কোনটিই এই গানটি কে বাদ দিয়ে ভাবা যায় না।

সেই দিনের সেই আগুন ঝরা দিনেই কালজয়ী গানটি লিখেছিলেন সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী। প্রথমে সুর দিয়েছিলেন আবদুল লতিফ। পরে আলতাফ মাহমুদের সুরটিই কেড়ে নেয়া সবার হৃদয়।  ১৯৫৪ সালের প্রভাতফেরীতে প্রথমবারের মতো আলতাফ মাহমুদের সুরের গানটিই গাওয়া হয়।

৫২ এর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত অমর ২১শে ফেব্রুয়ারীর গানটি শুরুতে লেখা হয়েছিল কবিতা হিসেবে। কবিতাটি ছিল ৩০ লাইনের। পরবর্তীতে এই কবিতার প্রথম ছয়টি লাইনই গান গাওয়া হয়।

গানটির রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী ১৯৫২ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি এ কবিতাটি লিখেছিলেন। ১৯৫৪ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে সংকলনে প্রকাশিত হয় গানটি। তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। গানটি গাওয়ার অপরাধে সে বছর আবদুল লতিফ এর বাসাতে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ আসে।

সে সময়কার একজন নামকরা সুরকার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ, পরবর্তী সময়ে গানটিতে পুনরায় সুরারোপ করেন। বর্তমানে এটিই গানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুর হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই গানটি এখন ইংরেজি, হিন্দি, মালয়, ফরাসি, সুইডিশ, জাপানিসহ ১২টি ভাষায় গাওয়া হয়।

You might also like