এস্ক্যাপের ৭৬তম বার্ষিক সভায় প্রধানমন্ত্রীকে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় এস্ক্যাপের ৭৬তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে এশিয়া ও প্যাসিফিক-এর জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এস্ক্যাপ) ।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আমন্ত্রণ জানান জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও এস্ক্যাপের নির্বাহী কর্মকর্তা আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

সাক্ষাৎকালে সালসিয়াহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশে নজিরবিহীন উন্নয়ন এবং উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন।এছাড়া তিনি বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন ও তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি বাংলাদেশের কোন খাতে তারা সহায়তা করতে পারেন জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আরো উন্নয়নে সহায়তা কামনা করেন।

তাঁর সরকারের গৃহীত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর সরকারের গৃহীত সকল উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রামকেন্দ্রিক।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তাঁর সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায়ও বেশকিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এস্ক্যাপের উন্নয়ন কর্মকান্ড- এবং এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে ও স্থলবন্দর নেটওয়ার্ক-এর সমন্বয়ে ইন্টারমোডাল রিজিওনাল নেটওয়ার্ক সমর্থন করে।তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এটি বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করবে এবং বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল (ডিবিআইএন) উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার (বিসিআইএন) উদ্যোগের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠনগুলোর সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী নয়, অথচ এ দেশ জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকুল প্রভাব মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপো উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন ‍নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি