করোনার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের সংগীত জগতে ধ্বস

আনতারা রাইসা: করোনাভাইরাসের আতঙ্ক সারা বিশ্বে। এই করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশেও। তাই এই আতঙ্ক বিরাজ করছে সব মানুষের মনে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। এর প্রভাব পড়ছে গানের জগতেও। গানের মানুষরা পারছেন না নিজের গানের প্রচার করতে।

সামনে অনুষ্ঠিত অনেকগুলো কনসার্টগুলো স্থগিত রাখতে হচ্ছে শিল্পীদের। এই কারণে শিল্পীদের আয় উপার্জন একেবারেই থেমে গিয়েছে। অনেক শিল্পীরাই এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন নিজেদের এই হতাশার কথা।

বাপ্পা মজুমদার লিখেছেন , আমি একজন কণ্ঠ শ্রমিক এবং একজন গান কারিগর। আমাকেও বাড়ি ভাড়া দিতে হয়, বাজার করতে হয়, নিত্যদিন চালানোর মত উপার্জন করতে হয়। আর সবার মতই।প্রায় একমাসের বেশি হয়ে গেল আমাদের গানের মানুষদের কাজ নেই। এই অবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে আমরা জানিনা।এমতাবস্থায় সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশনের নামে বিনা পারিশ্রমিকে কিংবা স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করতে বলা একধরণের সুযোগ নেয়া বলে আমি মনে করি।

আমাদের দেশে তো নির্ধারিত শোগুলি বাতিল হয়েছেই, প্রতিবেশি দেশ ভারতেও তার ব্যতিক্রম নয়। সেখানেও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। বন্ধ হয়েছে কন্সার্ট, গান রেকডিং। লকডাউনের জেরে আগামী এক বছর মুখ থুবড়ে পড়বে বাংলা গানের জগৎ, এমনটাই আশঙ্কা করছেন কলকাতার শিল্পীরা।

ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে গান করছেন রূপঙ্কর। ফেসবুকেও একে অন্যকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে গান গাইছিলেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকাকে বললেন, “মানুষের হাতে গানের জন্য খরচ করার আর পয়সা থাকবে না। যন্ত্রশিল্পীদের অবস্থা আরও খারাপ। শো নেই। তাঁদের টাকা নেই। অন্য শিল্পী দেখব আমার চেয়ে কম টাকায় অনুষ্ঠান করে চলে যাবে। শো পাওয়া নিয়ে ভয়ঙ্কর খেয়োখেয়ি হবে শিল্পীদের মধ্যে। ভয়ঙ্কর সময় আসছে। ২০২১-এর পুজোর আগে বাংলা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

যদিও সেখানে আশার বানী শুনিয়েছেন সংগীত শিল্পী শান্তনু মিত্র। তিনি বলছেন, মানুষ এখন যে ভাবে ঘরে বসে গানবাজনা করছেন সে ভাবেই বেশ কিছু দিন চলবে। অভ্যেস হয়ে গেলে এই কনটেন্টগুলোই মনিটাইজ করা হবে। সেখান থেকে রোজগারের পথ তৈরি হবে।

এই লকডাউন পরিস্থিতিতে অনেক শিল্পীই ঘরে বসে নিজেদের স্টুডিওতে গান রেকর্ড করছেন। তিনি হয়তো আবার তার অন্য বন্ধুকে পাঠাচ্ছেন গান এডিট করে দিতে। এভাবেই এখন কিন্তু গান তৈরি হচ্ছে।

ইমন চক্রবর্তী বলছেন, এই লকডাউন শিখিয়ে দিল শুধু গান জানলেই হবে না টেকনিক্যালি সাউন্ড হতে হবে আমাদের।

৬০০-র কাছাকাছি ছাত্রছাত্রী তাঁর। কিন্তু লকডাউনের সময়ে সুর নয়, আতঙ্ক নিয়ে বললেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী শ্রাবণী সেন, “কমিউনিটি গ্যাদারিং -এর ভয়ে সামনের এক বছর আর শো হবে না। সব ছাত্রছাত্রীকে তো অনলাইনে গান শেখাতে পারছি না। আর গান না শিখিয়ে আমি টাকা নিতে পারব না কোনও দিন। খুব খারাপ সময়। জানি না শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনানোর জন্য আর অনুষ্ঠানে ডাক পাব কি না!”

শুধু কি শিল্পীরাই এই লকডাউনে বিপাকে পরেছেন? একটা কন্সার্ট কিংবা অনুষ্ঠানের যারা চালিকাশক্তি অর্থাৎ যন্ত্রশিল্পী, লাইটিং ইত্যাদি কলাকুশলীরাও পরেছেন অর্থ সংকটে। কারণ তাদের আয় হত প্রতি অনুষ্ঠান বা কন্সার্ট অনুযায়ী। এখন এই লকডাউন পরবর্তী অবস্থায় দেশে অনুষ্ঠানের পরিমাণ অনেক কমে যাবে। তখন তাদের মুখে অন্ন জোটাবে কে?

এজন্যই শিল্পীরা চাচ্ছেন লকডাউন পরবর্তী সময়ে সরকারের উদ্যোগে সঙ্গীতশিল্পীদের নিয়ে কোনও সংগঠন তৈরি হওয়া দরকার। শিল্পী শুভা মুদগল ইতিমধ্যেই ভারতীয় মিউজিশিয়ানদের জন্য তহবিল তৈরি করেছেন। সেখানে এ আর রহমান দু’লক্ষ, শান এক লক্ষ টাকা দিয়েছেন।

বিপদে থাকলেও মানুষ বারবার ফিরে আসবে গানের কাছেই, এমনই বিশ্বাস প্রতিটা শিল্পীর।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি

You might also like