কাউখালীতে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, মাকে মারধর

১৮৩

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের ডাবুন্যাছড়া এলাকায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ধর্ষক ভিকটিম শিশুটির মাকে মারধর করলে গুরুত্বর আহত হন । তবে ঘটনাটি গত ১৪ ডিসেম্বর ঘটলেও ভিকটিম শিশুটির মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় মঙ্গলবার রাতে নিজে বাদী হয়ে ধর্ষক মোঃ তাওহিদসহ ৬জনকে আসামী করে কাউখালী থানা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও ভিকটিমের মা জানান, এক বছর আগে ঘটনার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তিন মেয়েকে নিয়ে ঘটনার ভিকটিমের মা উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের ডাবুন্যাছড়া এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। গত ১৪ ডিসেম্বর ভিকটিকম শিশুকে রেখে মা বাজার করতে ছেহেরী বাজারে যান। এই সুযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনের ছেলে মোঃ তাওহিদ (১৮) ভিকটিমকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিকটিম ও মাকে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। ধর্ষনের পর ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে পালানোর সময় এক প্রতিবেশী দেখতে পান। এটি ঘটানাটি অভিযুক্ত তাওহিদের পরিবারকে জানালে পরিবারের লোকজন ভিকটিম থেকে ঘটনাটি জানতে চাইলে ভিকটিম তার মাকে বাজার থেকে আসলে ধর্ষণের ঘটনাটি জানাবে। এতে ভিকটিমকে ভয়ভীতিদেখায় এবং এক পর্যায়ে মারধর করে চলে যায়।

পরে ভিকটিমের মা বাড়িতে আসলে ভিকটিম শিশুটি তার মাকে ধর্ষণ ও মারধরের বিষয়টি জানালে পুনরায় ধর্ষকের পরিবার ভিকটিম শিশু ও তার মাকে মারধর করে।

এতে স্থানীয়রা জানতে পেরে ভিকটিমের মাকে উদ্ধার করে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভিকটিমের মা চিকিৎসা শেষে কাউখালীতে ফেরত আসার পর আজ মঙ্গলবার রাতে কাউখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ধর্ষক মোঃ তাওহিদ (১৮), মা হাসিনা বেগম (৪০),পিতা জাকির হোসেন (৪৫),নুর জাহান (৩০),মোঃ আমির হোসেন(২৫), মোছাৎ গোলাপ নূর (৪৫) কে আসামী করা হয়েছে।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পারভেজ আলী জানান, ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিমের মা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। অতিদ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।