কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর 

২৩

পহেলা বৈশাখ  বাংলা সনের প্রথম দিন। এ দিনটি বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে।

কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।

এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা  বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকেই। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্রমাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীর খাজনা পরিশোধ করত। পরদিন নববর্ষে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।

ধীরে ধীরে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে পহেলা বৈশাখ আনন্দময় ও উৎসবমুখী হয়ে ওঠে। চারুকলা ইনস্টিটিউট আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা আরও আড়ম্বরপূর্ণ করে তোলে এই উৎসবকে।

রমনার বটমূলে বৈশাখের প্রথম প্রত্যুষে বাংলা নববর্ষের আবাহনটা শুরু করেছিল ছায়ানট। তবে বর্ষবরণ নিয়ে গেল বছর থেকে প্রায় স্তম্ভিত এই সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠটি। কারণটি অতিমারি করোনা। বর্ষবরণে এবারও সশরীরে নেই কোনও বিশেষ আয়োজন। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে ছায়ানট।

You might also like