১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আইরেসের ভিয়া ফায়োরিতা এলাকায় জন্ম হয়েছিলো ডিয়েগো ম্যারাডোনা নামে এক বালকের। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন ছোট্ট সেই বালকটি। ভাবতেন একদিন হবেন বড় তারকা, হয়েছেনও তাই। ফুটবলের জাদুকর হিসেবে সকলের মনে চির অমর হয়ে আছেন ম্যারাডোনা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ডিয়েগোর মহাকাব্যিক ইতিহাস রচনার শুরুটা হয়। ১৯৭৯ সালে জাপানের মাটিতে ১৯ বছরের ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা যুব বিশ্বকাপ জিতে। তখনই দেশ বুঝে যায়, ফুটবলের এক কিংবদন্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব।
তবে, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইতিহাস রচনা করেন ম্যারাডোনা। দুর্দান্ত নৈপুণ্য ও নেতৃত্বে তাক লাগিয়ে নিজ দেশকে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। সেই বিশ্বকাপে তার ‘হ্যান্ড অফ গড’ ও ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’র মতো গোল চিরদিনের মতো ফুটবল ডিকশনারিতে জায়গা করে নেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি ফুটবল জাদুকর। নিজেকে ফুটবল বিশ্বে বিলিয়ে দিয়েছেন একে একে গড়েছেন নয়া বিস্ময়। ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ক্যারিয়ারে ৩৪৬টি গোল করেছেন আর্জেন্টাইন এ মহাতারকা।
তবে ফুটবলে বিস্ময় জাগানো এ মহাতারকার জীবনে সমালোচিত কাণ্ডও ছিল অনেক। ১৯৯০ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুললেও সেই আসরে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হন ম্যারাডোনা। ফলে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হয় তাকে। এরপর ১৯৯১ সালে নেপলসে ড্রাগসহ ধরা পড়া, ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার। সব কিছু মিলিয়ে আর স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি এ ফুটবল কিংবদন্তিকে।
২০২০ সালে বুয়েন্স আইরেসের হাসপাতালে আইসোলেশনে থেকে ৬০তম জন্মদিন পালন করেন ম্যারাডোনা। তার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান ফুটবলের এ জাদুকর।
তবে, ম্যারাডোনা এখনও বেঁছে আছেন সকল ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ে। আজ ৬৫তম জন্মদিনেও ম্যারাডোনা জীবন্ত! মাঠে ডিয়েগোর লড়াই, বলে স্বপ্ন ছোঁয়া এখনও অনুপ্রেরণা জোগায় তার অনুসারীদের। তার দেখানো পথেই মেসিদের মতো শিষ্যদের পায়ে রচিত হচ্ছে একের পর এক মহাকাব্য।