চাল-দুধ-রসুন ও আলুর দাম বেড়েছে

বাজারে দাম বেড়েছে চাল, রসুন, আলু ও মিল্ক ভিটা প্যাকেট দুধের। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম।

শুক্রবার (৩ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এসব চিত্র।

বাজারে সবজির দাম তেমন বাড়েনি। এসব বাজারে শসা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। লম্বা বেগুন, গোল বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, চায়না গাজর প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৫০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, পেঁপের কেজি ৫০ টাকা, বটবটির কেজি ৮০ টাকা, ধুন্দুলের কেজি ৭০ টাকা, মটরশুঁটির কেজি ১২০ টাকা।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পেঁপে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি করছেন ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, যা তিন সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। আর দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, যা তিন সপ্তাহ আগে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

এছাড়া বাজারে বেড়েছে আলুর দাম। ৫ টাকা বেড়ে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। তিনদিন আগেও আলুর কেজি ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা।

 আলু বিক্রেতা করিম উল্লাহ বলেন, পাইকারি বাজারে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। সেভাবেই আলু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন। মানভেদে আলুর প্রতিকেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি। আর একটু ভাল মানের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। বাজারে চায়না রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। বার্মার আদার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। চায়না আদার দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। এসব বাজারে দেশি মুশুরের ডালের কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ইন্ডিয়ান মুশুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। প্যাকেট আটার কেজি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০। খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

বাজারে মিল্ক ভিটার প্রতি লিটারে প্যাকেট দুধের দাম বেড়েছে। ৭ টাকা দাম বাড়িয়ে লিটার বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এছাড়া আধা লিটার দুধের প্যাকেট এর দাম বেড়েছে ৫ টাকা। আধা লিটার মিল্ক ভিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের প্যাকেটজাত দুধ বিক্রেতা মো: নুরী বলেন, মিল্ক ভিটার কোম্পানি লিটারে দুধের দাম বাড়িয়েছেন। বর্তমানে মিল্ক ভিটার ১ লিটার দুধ বিক্রি করছি ৮০ টাকায়। আগে বিক্রি করতাম ৭৩ টাকা লিটার। আধা লিটার প্যাকেট বিক্রি করতাম ৪০ টাকায়। এখন আধা লিটার প্যাকেট মিল্ক ভিটা বিক্রি করছি ৪৫ টাকায়। কোম্পানির লোকেরা বলছে সবকিছুর দাম বাড়ায় দাম বেড়েছে মিল্ক ভিটার দুধের।

এসব বাজারে লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। বাজারে হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ১৯০ টাকা। বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭০০ টাকা। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়।

বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়।

চালের দাম বেড়েছে বাজারে। মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা। একসপ্তাহ আগে মিনিকেটের কেজি ছিল ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা। ২৮ চালের কেজি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়। আগে দাম ছিল ৫০ টাকা কেজি। নাজিরশাইল চালের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারে পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।

১১ নম্বর বাজারের মকবুল রাইস এজেন্সির কর্ণধার কামাল সরকার বলেন, রাইস মিল মালিকরা নানান অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়েছেন। সরকার চালের মজুদ ঠেকাতে পারছেনা। এসব কারণেই চালের ভরা মৌসুমে দাম বেড়েছে।

বাজারের ক্রেতা শাহাদাত হোসেন রিফাত বলেন, বলতে হবে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন পণ্যের দাম বাড়েনি? বাজারে প্রতিদিন কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। পণ্যের দাম বাড়লেও মধ্যবিত্তদের আয় বাড়েনি। সংসারের খরচ মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।