জলবায়ু-প্রভাবিত অভিবাসনে সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জলবায়ু-প্রভাবিত অভিবাসন ও স্থানচ্যুতির বিষয় স্বীকার করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন আলোচনায় বিষয়টিকে মূলধারায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (১৪ নভেম্বর) মিশরের শারম এল-শেখ অবকাশকেন্দ্রে কপ-২৭-এর সাইডলাইনে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মানবিক গতিশীলতা: অভিবাসন ও জলবায়ু কর্মের ওপর একটি ইতিবাচক বর্ণনা তৈরি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এই বিষয়টির ওপর জোর দেন।

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

যৌথভাবে বাংলাদেশ সরকার, ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় দলীয় প্রতিনিধি, উন্নয়নসহযোগী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, একাডেমিয়া এবং নাগরিক সমাজের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের একত্রিত করেছিল। এর উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উদ্ভূত মানুষের গতিশীলতার সমস্যাগুলো অনুসন্ধান করা।

অন্যদের মধ্যে সিভিএফের ঘানা প্রেসিডেন্সির বিশেষ দূত হেনরি কোয়াবেনা কোকোফু, আইওএমের অপারেশনস উপমহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস এবং উগান্ডার পানি ও পরিবেশবিষয়ক স্থায়ী সচিব আলফ্রেড ওকোট ওকিদিও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মো. আবদুল মুহিত।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জলবায়ু ঝুঁকির বিরুদ্ধে গ্লোবাল শিল্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এটি একটি উদ্যোগ যার নেতৃত্বে ভালনারেবল গ্রুপ-২০ অব ফিন্যান্স মিনিস্টারস (ভি২০) এবং গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) আর্থিক সহায়তার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে জলবায়ু বিপর্যয়ের সময়ে দ্রুত মোতায়েন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারিস চুক্তির অধীনে করা অর্থায়নের প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে গ্লোবাল শিল্ডের দিকে নতুন এবং অতিরিক্ত সংস্থান জোগাড় করার জন্য জি৭-এর প্রতি আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানি এবং ঘানার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগ দেন।

পরে বিকেলে ডাচ প্যাভিলিয়নে আন্তর্জাতিক প্যানেল অন ডেল্টাস অ্যান্ড কোস্টাল জোনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।

অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডসের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ ‘চ্যাম্পিয়ন্স গ্রুপ ফর ডেল্টাস অ্যান্ড কোস্টাল জোন’-এ যোগ দেয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব-দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলকে প্রভাবিত করে এমন জটিল জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সহযোগিতামূলক পন্থা নিয়ে মাল্টি-স্টেকহোল্ডার অংশীদারত্ব বাড়াতে কাজ করতে হবে।’

তিনি আন্তর্জাতিক ডেল্টা কোয়ালিশনের কাঠামোর মধ্যে নেদারল্যান্ডস এবং অন্য ব-দ্বীপ দেশগুলোর সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়নে কারিগরি সহায়তার জন্য তিনি ডাচ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডস ও মিশরের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

You might also like