জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

৩৬

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মুজিবশতবর্ষে প্রথমবারের মতো ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’ পালন করছে জেনে আমি আনন্দিত। এ বছর জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান, টেকসই উন্নয়নের উপাদান’ যা পরিসংখ্যানের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও ব্যবহারের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে সঠিক পরিকল্পনাপ্রণয়ন, উন্নয়ন ও অগ্রগতি-পর্যবেক্ষণে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিসংখ্যান-কার্যক্রমে নিয়োজিত কয়েকটি পৃথক প্রতিষ্ঠানকে একীভূত ও সুসমন্বিত করে ১৯৭৪ সালে বিবিএস প্রতিষ্ঠা করেন। পরিবর্তীতে বিবিএস এর সার্বিক কর্মকান্ড সমন্বয়, তত্ত্বাবধান ও সাচিবিক সহযোগিতা-প্রদানের জন্য ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় পরিসংখ্যান বিভাগ। জাতীয় পরিসংখ্যানিক ব্যবস্থার গুরুত্ব উপলব্ধি করে আওয়ামী লীগ সরকার ৮ জুন, ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২৭ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

পরিসংখ্যান উন্নয়ন ও অগ্রগতির পরিমাপক। অর্থনীতিসহ সমাজের অন্যান্য সকল কর্মকাণ্ডের গতি-প্রকৃতি নির্ণয় ও উন্নয়নপরিকল্পনা প্রণয়নে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিসংখ্যান যত নির্ভুল হবে, নীতিনির্ধারকদের জন্য পরিকল্পনাপ্রণয়ন এবং সিদ্ধান্তগ্রহণ তত সহজতর হবে। আমাদের সরকার সকলক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয়, সময়োপযোগী ও মানসম্পন্ন পরিসংখ্যান-সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়া ও পরিজ্ঞাতকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সঠিক সিদ্ধান্তগ্রহণে চাহিদামাফিক উপাত্ত-সরবরাহ এবং পরিসংখ্যানবিষয়ক কার্যক্রম সময়োপযোগী ও তরান্বিতকরণে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।

আমি বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়ন-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্তগ্রহণে সঠিক, নির্ভরযোগ্য এবং সময়োপযোগী পরিসংখ্যান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং আমাদের পরিবর্তিত বিশ্বকে বুঝতে সাহায্য করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পরিবীক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপাত্ত-প্রাপ্যতার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লিখিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় পরিসংখ্যান-সংস্থা হিসেবে বিবিএস টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর ২৩১টি সূচকের মধ্যে ১০৫টি সূচকের উপাত্তপ্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত প্রদানকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার সাথে হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের জন্য বিবিএস সমন্বয়সাধন করছে। আমি পরিকল্পনাকারী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং গবেষকগণ, যাঁরা দেশের টেকসই-উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন-তাঁদের বিদ্যমান পরিসংখ্যানের সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি মনে করি, জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালনের মাধ্যমে দেশবাসীকে পরিসংখ্যানের গুরুত্বসম্পর্কে সচেতন করার একটি অনন্য সুযোগ। করোনা-ভাইরাসের মহামারি থেকে জীবন বাঁচাতে এবং এ থেকে উত্তরণে পরিসংখ্যানের গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই লগ্নে বৈশ্বিক করোনা-মহামারি পরিস্থিতিতেও আমরা সময়োপযোগী সঠিক পরিসংখ্যানের সাহায্যে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম-আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।

আমি ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২১’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

You might also like