জাল সাটিফিকেট দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক

কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলার জনতা বাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ এর সাটিফিকেট জাল। এমন অভিযোগের সত্যতা মিলল বিজয় টিভির অনুসন্ধানে।

১৯৯৩ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের জনতা বাজার সোলায়মান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন নুর মোহাম্মদ। এরপর নোয়াখালীর চাটখিলের পাঁচগাঁও মাহাবুব সরকারি কলেজ ভর্তি হন । ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশনিলে ও পাস করতে পারেননি তিনি।

১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করা নুর মোহাম্মদ একই বছরে নিজেকে পাস দেখিয়ে ভর্তি হন সোনাইমুড়ি ডিগ্র্রি কলেজে। ওই কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে সরকারি চাকুরি করছেন।এখন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও তিনি।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর জাল সনদ ব্যবহার করে ডিগ্র্রিতে ভর্তি হয়ে ১৯৯৭ সালে ডিগ্রি (বিএসএস) পাস করেন নুর মোহাম্মদ। এরপর ২০০৭ সালে সেই জালিয়াতির শিক্ষা সনদ ব্যবহার করে চাকুরি শুরু করেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্তমানে চাকুরীর প্রমোশনে মনোহরগঞ্জ উপজেলার জনতা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন।

পাঁচগাঁও মাহাবুব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো.মনিরুল ইসলাম জানান, নুর মোহাম্মদ আমাদের কলেজ থেকে পাস করেনি। সে অকৃতকার্য হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাপ্ত টেবুলেশন শিটে ওই তথ্য উল্লেখ আছে।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, সকল অভিযোগ মিথ্যা বলেন নুর মোহাম্মদ। আত্মীয়রা সম্পত্তির জন্য এসব মিথ্যা রটনা রটাচ্ছে বলে উল্টো অভিযোগ করেন তিনি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় জনতা বাজার সোলায়মান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেন নুর মোহাম্মদ। এরপর ১৯৯৩-১৯৯৪ শিক্ষাবর্ষে চাটখিলের পাঁচগাঁও মাহাবুব সরকারি কলেজ ভর্তি হন তিনি। ওই কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় (রোল নম্বর-৫১২৪৫০) অংশগ্রহণ করেন তিনি। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাপ্ত টেবুলেশন শিটে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালের ওই পরীক্ষায় ফেল করেন নুর মোহাম্মদ। এরপর ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় নিজেকে পাস দেখিয়ে ১৯৯৫-১৯৯৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন সোনাইমুড়ি ডিগ্র্রি কলেজে। ওই কলেজ থেকে ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত ডিগ্রি পাস (বিএসএস) করেন।

জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত ওই শিক্ষা সনদ দিয়ে ২০০৭ সালে মনোহরগঞ্জ উপজেলার জনতা বাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে চাকুরি শুরু করেন। এরপর ২০১৩ সালে সরকার ওই রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করে। সে সময়েও ওই জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরি শুরু করেন তিনি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক না থাকায় নুর মোহাম্মদ ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকুরি করছেন।

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি

You might also like