টেলিভিশনের অগ্রযাত্রা ও বিজয় টিভির নবম বর্ষে পদার্পণ

১৬৮

মানবসভ্যতা সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। তার জন্য আবিষ্কৃত হচ্ছে নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি। টেলিভিশন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি আধুনিক প্রযুক্তির অনবদ্য আবিষ্কার। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ১৯৪০ সালে টেলিভিশন চালু হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যন্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে।

সময়ের বিবর্তনে সেই টেলিভিশনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। তার রূপ, আকার, প্রযুক্তি আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। এক সময়ের বড় বাক্স থেকে যন্ত্রটি এখন চলে এসেছে একেবারে হাতের মুঠোয়। প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে টেলিভিশন এখন মানুষের হাতে হাতে। আবার সম্প্রচার থেকে প্রদর্শনেও লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া।

মূলত ১৯৩৬ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু করে বিবিসি। আর গত শতাব্দীর ৫০ এর দশকে গণমাধ্যমের ভূমিকায় উঠে আসে টেলিভিশন। তবে ইন্টারনেটের সহজপ্রাপ্যতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অবাধ বিচরণে এখন মুহূর্তেই মানুষের হাতের মুঠোই পৌঁছে যাচ্ছে বিনোদন, খেলা, খবরা-খবরসহ সবকিছু। ইন্টারনেট বেইজ টেলিভিশন আইপি টিভিও টেলিভিশন খাতের অন্যতম সংযোজন।

বাংলাদেশে টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। পাকিস্তান টেলিভিশনের বাংলাদেশ শাখা বা ঢাকা স্টেশন হিসেবে টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়। আইয়ুব খান নিজের উন্নয়নের ঢাকঢোল পেটানোর জন্য‌ই এ টেলিভিশনটা চালু করেন। যাতে সনাতন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো। মনে আছে, একসময় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে অ্যান্টেনা থাকত, সেই অ্যান্টেনার মাধ্যমে মানুষ অনুষ্ঠান উপভোগ করতো। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এই টেলিভিশনের নাম হয়ে যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন।

বাংলাদেশে টেলিভিশনের স্বর্ণযুগ শুরু হয় ১৯৯৭ সালে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। ১৯৯৮ সালে স্যাটেলাইট চ্যানেল হিসেবে সর্বপ্রথম লাইসেন্স দেয়া হয় ২ টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে। আর সেখান থেকে বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে ৪৪টি। আর ৫৭তম দেশ হিসেবে ১১ মে ২০১৮ কেনেডি স্পেস সেন্টার  থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করে নিজস্ব স্যাটেলাইট যুগে। যা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক সফল মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর হাত ধরে বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তিতে ১ ডিসেম্বর ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল বিজয় টিভি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত বিজয় টিভির অফিসিয়াল ট্রান্সমিশন শুরু হয় ৩১ মে ২০১৩ সালে। ‘অনির্বাণ বাংলা’ স্লোগানে দেশের মানুষের কাছে বিজয় টিভি পেয়েছে ঈর্ষান্বিত দর্শকপ্রিয়তা। দীর্ঘ ৮ বছর পেরিয়ে আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর গড়ে তোলা বিজয় টিভি সফলতার সাথে আজ নবম বর্ষে পদার্পণ করেছে। বিজয় টিভির এ মাহেন্দ্রক্ষণে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা দিয়েছের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানসহ দেশ-বিদেশের অগণিত দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা, ক্যাবল অপারেটর ও শুভানুধ্যায়ীরা।

দক্ষ ব্যবস্থাপনা পর্ষদ, বিক্রয় ও বিপণন বিভাগ, সম্প্রচার বিভাগ, বার্তা বিভাগ, প্রযোজনা ও চিত্র সম্পাদনা, অনলাইনসহ সকল বিভাগের কর্মী ও প্রতিনিধিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং দর্শকদের প্রাধান্য দিয়ে সৃজনশীল অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর শীর্ষে পৌঁছাবে বিজয় টিভি, এমনটাই প্রত্যাশা আজকের এই শুভদিনে।

-প্রাণ কিশোর

অ্যাসিসট্যান্ট নিউজ এডিটর, বিজয় টিভি