ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন সাক্ষরতাজ্ঞান: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সবার আগে প্রয়োজন সাক্ষরতাজ্ঞান। দেশের সব মানুষকে সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করা গেলে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের ফলে নিরক্ষর ও সাক্ষরতাজ্ঞান সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৃষ্ট বিভাজন কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতিসংঘ ঘোষিত এবং ইউনেসকো নির্ধারিত আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এবারের থিম ‘সাক্ষরতা শিখন ক্ষেত্রের প্রসার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশে এবার এ দিবস পালিত হবে। প্রতিবারের মতো এবারও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষরতাজ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

মো. জাকির হোসেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

ইতোমধ্যে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

এবারের সাক্ষরতা দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে উদ্বোধনী ও আলোচনা অনুষ্ঠান, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, সংবাদ সম্মেলন, গোলটেবিল বৈঠক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় টকশো ও বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার। তা ছাড়া প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকরা মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির সঙ্গে দিবসটি উদ্‌যাপন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গতিশীল নেতৃত্বে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে মৌলিক শিক্ষাসহ দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে।

এর মধ্যে ব্যুরোর জনবল কাঠামো শক্তিশালীকরণ, ব্যুরোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতার আলোকে নিয়মিত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ইত্যাদি বিষয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো প্রাথমিক শিক্ষা, সাক্ষরতা দক্ষতা ও বাজার চাহিদা অনুযায়ী জীবিকায়নের দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা, যার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব।

এ ছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলা যথা-খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও নিরক্ষরদের সাক্ষরতা প্রদান ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসম্পদে পরিণত করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক ও কর্মকর্তারা।

You might also like