তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ

বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়ন ও সুনির্দিষ্ট কর আরোপসহ চার দফা সুপারিশ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) এবং বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি।

বুধবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব সুপারিশ জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম আব্দুল্লাহ।

অন্যান্য সুপারিশগুলো হচ্ছে- নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে ক্রেতাদের কাছে সিগারেট বিক্রিতে বাধ্য করা, তামাকজাত দ্রব্য থেকে আদায় করা রাজস্বের অতিরিক্ত অংশ দিয়ে বিনামূল্যে হৃদরোগ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তামাক করনীতি প্রণয়ন করা।

লিখিত বক্তব্যে এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে কাজ করা তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করারোপের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়। এ বছরও ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও তামাক কর বিশেষজ্ঞরা তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর আরোপের একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছেন এবং তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সেটি সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পেশ করা প্রস্তাবে প্রচলিত অ্যডভেলোরেম কর আরোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ পদ্ধতির প্রবর্তনসহ সব তামাকজাত দ্রব্যের ওপর মূল্য ও করের পরিমাণ প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসার ব্যয়বহুল তিনটি সেবা হলো- এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং (রিং পরানো) এবং বাইপাস সার্জারি। জানা যায় বাংলাদেশের ২২টি হাসপাতালে এসব চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ রোগী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে এসব চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। এ তিনটি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা এবং খরচের হিসাব কষে দেখা যায়। এ তিনটি হাসপাতালে ওই তিনটি সেবা নিতে মোট ব্যয় হয় ২৮৬.৬১ কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের (৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা) মাত্র ৩.১২ শতাংশ। এই রোগী সংখ্যাকে ৭০ শতাংশ ধরে নিলে দেশের সব হৃদরোগীর একই ধরনের চিকিৎসা নিতে ব্যয় হবে ৪০৯.৪৪ কোটি টাকা। যা ওই অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের ৪.৪৫ শতাংশ মাত্র।

আব্দুল্লাহ আরও বলেন, সরকার চাইলেই দেশের সব জনগণের হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় তামাক খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের খুব সামান্য অংশ দিয়েই মেটাতে পারে। এভাবে ক্যান্সার, হাইপার টেনশন, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় সরকার এই অতিরিক্ত রাজস্ব আয় দিয়েই মেটাতে পারে। তবে এজন্য সরকারকে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রস্তাব অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর আরোপ করতে হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ আ্যডভেলোরেম কর আরোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ডিপার্টমেন্ট অব ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন।

You might also like
%d bloggers like this: