তিস্তা নদীর দুই পাড় ঘিরে স্থায়ী উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা

১০৩

তিস্তা নদীর দুই পাড় ঘিরে মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। আগামীতে তিস্তা নদীর দুই পাড় একটি পর্যটন নগরী রূপে গড়ে উঠতে যাচ্ছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরিদ্রপীড়িত জেলা লালমনিরহাটকে কয়েক বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে লালমনিরহাট জেলাকে দারিদ্র মুক্ত করতে কাকিনার মহিপুরে তিস্তা ব্যরেজ সেচ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাট জেলা তিস্তা ব্যারেজের সেচ প্রকল্পের আওতায় আসত। কিন্তু জাতির জনককে পঁচাত্তরের পনেরই আগষ্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়। ফলে কাকিনায় আর সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ফলে এক সময়ের তিস্তা নদী জেলার জন্য অভিশাপে পরিণত হয়। সেচ প্রকল্পের কারণে বর্ষা মৌসুমে ভারত অতিরিক্ত পানি প্রত্যাহার করায় তিস্তা নদীর পানির তোড়ে জেলাবাসী দফায় দফায় বন্যার কবলে পড়ে। আবার শুস্কমৌসুমে ভারত সরকার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তিস্তা ব্যারেজের রির্জাভারে পানি সংরক্ষণ করে সেচ ব্যবস্থা চালু রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে তিস্তা নদী শুকিয়ে যায়। তিস্তা পাড় হয়ে উঠে মরুভুমির মত।

১৯৮৯ সালের পর হতে তিস্তা পাড়ের তিস্তা নদীকে ঘিরে পেশাজীবি যেমন, মৎস্যজীবি, খেয়া ঘাটের নৌকার মাল্লা, কৃষিজীবিসহ নানা পেশার হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে কয়েক হাজার মানুষ পথে বসে যায়। লাখ লাখ হেক্টর ফসলের জমি নদী গর্ভে বিলীণ হয়ে যায়। এক সময়ের বিত্তবান জোতদার কৃষক পরিবার গুলো রাতারাতি পথের ফকিরে পরিণত হয়ে যায়। নেমে আসে দারিদ্রতা। তিস্তা পাড়ে গৃহহীন মানুষ ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস শুরু করে। অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটে। দেখা দেয় মঙ্গা।

পরবর্তিতে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ বছরের ঐকান্তিক চেষ্টায় ও নানা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে তিস্তাপাড়ের মানুষকে নিয়ে আসেন। তিস্তা নদীর চরের বাড়ি গুলোকে বন্যামুক্ত করতে ভিটা উচু করে দেয়া হয়। বাড়িতে বাড়িতে খামার করতে সরকারি কর্মসূচি হাতে নেয়।

গবাদি পশু পালন সহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে চরের নারীদের সম্পৃক্ত করাসহ চরে শুস্ক মৌসুমে নানা ফসল ফলাতে সরকারি ভর্তুকি দেয়। বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি সর্ম্পকে কৃষক ও কৃষাণিদের সরকারি ভাবে প্রশিক্ষণ দেয়। প্রায় প্রতিটি চরে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। চরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ৬ হাজার জনবসতি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করে কমিউনিটি ক্লিনিক। চরে অভাবের সময় কর্মহীন মানুষের কাজ নিশ্চিত করতে বছরে দুই বার ৪০দিন ৪০দিন করে কর্মসৃজন কর্মসূচি সরকারি ভাবে বাস্তবায়ন করে। এসব নানা উদ্যোগে এখন তিস্তা পাড়ের মানুষ মঙ্গা মুক্ত হয়েছে। (বাসস)

You might also like