তীব্র ভাঙনের মুখে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া এলাকায় প্রমত্তা পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক।

পদ্মানদীর তালবাড়িয়া পয়েন্টে ভাঙন নতুন না হলেও এবারের মতো ভাঙন আগে দেখেননি স্থানীয় মানুষ। গত ২০ বছরে তালবাড়িয়া, বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে এই ভাঙন এতটাই বেড়েছে যে, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের দূরত্ব এখন নদী থেকে মাত্র ১শ’ মিটারে গিয়ে ঠেকেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালবাড়িয়া পয়েন্টের বিপরীতে, নদীর উত্তর পাড়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ৩শ’ মিটার নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে নদীর দক্ষিণ পাড়ে ভাঙন এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন এবং তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হান্নান মণ্ডল জানান, ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ৭ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য এক বছর আগে, একটি প্রকল্প প্রস্তত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

নদীর উত্তর পাড়ে অবকাঠামো নির্মাণের ফলেই এমন ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তাই ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস কর্মকর্তাদের।

এখনই ভাঙন ঠেকাতে না পারলে যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক। এতে প্লাবিত হতে পারে কুষ্টিয়া জেলাসহ খুলনা বিভাগের বিস্তীর্ণ জনপদ। তাই আশ্বাস নয়, নদীভাঙন ঠেকাতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয় মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের।