দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন

৮৭

দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন। নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক করার পর স্নাতকোত্তর বা এমফিলে অধ্যয়নরত আছেন কিন্তু তফসিল ঘোষণার দিন পর্যন্ত বয়স ৩০ অতিক্রম করবে না, এমন শিক্ষার্থীরা প্রার্থীতার সুযোগ পাচ্ছেন যাঁরা একাধিক স্নাতকোত্তর করছেন, তাঁরাও সেই সুযোগ পাবেন। তবে পিএইচডি বা সন্ধ্যাকালীন কোনো কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ভোটার বা প্রার্থী কোনোটিই হতে পারবে না। আর বেশির ভাগ সংগঠনের দাবি সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্রগুলো হচ্ছে আবাসিক হলে।

মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনী ও নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়ে এসব সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই সভা চলে। সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান এসব সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান।

নির্বাচন সামনে রেখে ২১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছিলেন। সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবিদাওয়া, ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনী ও আচরণবিধি সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিন্ডিকেট।’

এর আগে ১০ জানুয়ারি ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন ও পরিমার্জনে গঠিত কমিটি ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়। সভার পর ১৪ জানুয়ারি কমিটির কাছে গঠনতন্ত্রের কোথায় তারা কী ধরনের পরিবর্তন চায়, তা লিখিতভাবে জমা দেয় সংগঠনগুলো। তবে গঠনতন্ত্রের মৌলিক কোনো বিষয়ে হাত না দিয়ে শুধু কয়েকটি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রেখেই গত ২০ জানুয়ারি উপাচার্যের কাছে সুপারিশ জমা দেন কমিটির সদস্যরা।

এর মধ্যে গত ১৭ জানুয়ারি ডাকসু নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমানকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেন উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। ওই দিন ১৫ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়। নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সহায়তার জন্য ৫ অধ্যাপককে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ১৯ জানুয়ারি। ওই দিন নির্বাচনের আচরণবিধি প্রণয়নে ৭ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয় ৷

 

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি

You might also like