দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে একমত হাসিনা-রাজাপাকসে

৬৮

দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে একমত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে।

শনিবার (২০ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্ভাবনার চেয়ে অনেক কম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে যৌথ ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের এখন দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) যাওয়া উচিত।

বেসরকারি সেক্টরের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশের অনেক পণ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে বিনিয়োগে শ্রীলঙ্কান উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের পাওয়ার সেক্টরে বিনিয়োগ করেছে। আমরা শ্রীলঙ্কান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং হাইটেক পার্কগুলোতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই।

ধান চাষ, মিঠা পানির মাছ চাষসহ কৃষি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপকূল, অ্যাকোয়াকালচার, গভীর সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ আহরণ বিষয়ে শ্রীলংকা থেকে প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সক্ষমতা অর্জন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাদারদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের ওষুধ আমদানি করে শ্রীলঙ্কা লাভবান হতে পারে।

জরুরি রেসপন্স, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং প্রশমণ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বিনিময় করার আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে নিয়মিত সাক্ষাৎ ও বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপগুলো নিয়মিত হওয়া উচিত।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গুরুত্বসহকারে দেখে। আগামী বছর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে দুই দেশের বিদ্যামান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রীলঙ্কা সফরের আমন্ত্রণ জানান রাজাপক্ষে। বাংলাদেশের ডিজিটাল দেশে রূপান্তরের প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী।

পারস্পরিক লাভের জন্য কৃষি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সেক্টর বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাজাপক্ষে।

বাংলাদেশের ব্লু -ইকোনমি ধারণার প্রশংসা করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। করোনা পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

You might also like