‘দেশের ইতিহাস আর কেউ বিকৃত করতে পারবে না’

৬৫

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করার যে চেষ্টা হয়েছিল, তেমন কাজ এ দেশে আর কেউ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় পৌনে ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার দিনটি স্মরণ করে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন তিনি।

দেশে ফেরার সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘অনেক ঝড়-ঝাপটা অনেক বাধা অতিক্রম করেই আমাকে আসতে হয়েছিল। কারণ অনেক বাধা ছিল। তখনকার সরকার কিছুতেই আমাকে আসতে দেবে না। আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’

‘জানতাম যে খুনি এবং যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচার আমার বাবা শুরু করেছিলেন। তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তারা ক্ষমতায়। খুনিদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে, তারা ক্ষমতায়। ওই অবস্থায় কিন্তু আমি চলে আসছিলাম। আমি কোনো কিছু চিন্তা করিনি, আমি চলে এসেছি।’

যারা ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছিলেন, যারা দলের সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা জনগণের শক্তিটা হচ্ছে সব থেকে বড় শক্তি। কারণ আমি যখন বাবা-মা ভাইবোন হারিয়ে এই দেশে এসেছি, গ্রাম-গঞ্জে যেখানেই গেছি সাধারণ মানুষ, গ্রামের মানুষদের অনেক ভালোবাসা, স্নেহ পেয়েছি। শুধু আমাদের দেশের ভেতরে না, বাইরের সবকিছু মিলিয়েই অনেক ঝড়-ঝাপটা পার হয়েই আজকে এই জায়গাটায় আসতে পেরেছি। এটিই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।’

ইতিহাস একেবারেই মুছে ফেলা হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস পুরো পরিবর্তন করা হয়েছিল। এখন একটা আত্মবিশ্বাস এসে গেছে বাংলাদেশের ইতিহাস আর কেউ কোনো দিন বিকৃত করতে পারবে না, মুছতে পারবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার ফিরে আসার ব্যাপারে সব থেকে আগে স্টেটমেন্ট দেয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদের। সে তখন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। আর যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন তখন আমাদের আমির হোসেন আমু। যুবলীগের পক্ষ থেকে তারা দিয়েছিলেন। আর পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে এই কথাটা তুলেছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। যদিও তিনি পরে অন্য দলে চলে যান। কিন্তু তিনিই প্রথম আমার আর রেহানার দেশে আসার বিষয়টা তুলেছিলেন।’

You might also like