দোহারে বিয়ের তিনদিন পর নববধূর মৃত্যু, আটক ৪

মেহেদীর রং শুকাতে না শুকাতেই ৩ দিনের মধ্যে শিখা আক্তার (১৮) নামে নববধু লাশ হয়ে গেলেন । সোমবার বিকেলে ঢাকার দোহারের  ব্যাঙ্গারচর চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মিয়া বাড়ীর পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে শিখার স্বজনরা তার মৃত দেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় । পরে থানায় খবর দিলে গলায় কলস বাঁধা অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।

নিহত শিখা দোহার ঘাটা গ্রামের প্রবাসী সিরাজ মিয়ার কন্যা। গত শনিবার আনুষ্ঠিকভাবে বিবাহ দেয় শিখার পরিবার । এ ঘটনার পর পুলিশ নিহত নববধূ শিখার শাশুড়ী, ভাসুর, দুই জা’কে আটক করেন।

নিহত শিখার স্বামী রুহুল আমিন পলাতক রয়েছেন। শিখার স্বামী রুহুল আমিনের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

নিহতের মা রুনু আক্তার জানান, আমার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিয়ের দিন অতিরিক্ত সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গহনার পাশাপাশি ইমিটেশনের অলংকার পরিয়ে সাজিয়ে দেয়া হয়। বর রুহুল আমিনের পরিবার এই ইমিটেশনের বিষয়টি ভাল ভাবে মেনে নেয়নি। পরিবর্তিতে রাতেই স্বর্ণালংকার ও ইইমিটেশনের অলংকার খুলে নিয়ে শিখার মা- বাবাকে স্বর্ণালংকার দেয়ার চাঁপ প্রয়োগ করেন। ক্ষোভে বর রুহুল আমিন বাসর রাতে মারধর করে বাসর ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে আলাদা থাকে । এর জের ধরে আমার মেয়েকে গলায় কলস বেঁধে ডুবিয়ে হত্যা করেছে।

পুলিশ জানায়, নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে এবং মৃত দেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় ওড়না দিয়ে কলস বাধা ছিলো। ধারনা করা হচ্ছে লাশ লুকিয়ে রাখার জন্য গলায় কলস বেধেঁ দেওয়া হয়েছিলো।

দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি

You might also like