পদ্মা সেতু চালু হলে অনাখাঙ্খিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে সাধারণ মানুষ

২০২১ সালের ৩রা মে। করোনার কারণে সারাদেশে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। যার কারণে বন্ধ সব ধরনের যানবাহন। এমনকি বন্ধ যাত্রীবাহী নৌযানও। তবুও এ বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে স্পিডবোটে করে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করা হয়।

এদিন, মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাট সংলগ্ন কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকায় স্পিডবোটের ভয়ঙ্কর রকমের দুর্ঘটনায় সলিল সমাধি হয় ২৬টি তাজা প্রাণের। শিমুলিয়া থেকে যাত্রীদের নিয়ে আসার সময় কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে নোঙর করা একটি বালু বোঝাই বাল্কহেডের সাথে সংঘর্ষ হয় স্পিডবোটটির। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

মূলত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া এবং দ্রুতগতির কারণে ঘাটে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে কেউবা হারায় স্বজন আবার কেউ বরণ করেন পঙ্গুত্ব। ফলে এসব পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার।

দুর্ঘটনার সমূহ সম্ভাবনা থাকলেও যাত্রীরা অতিদ্রুত ঘাট পার হতে বেছে নেয় স্পিডবোট। যদিও এতে দ্রুত ঘাট পার হতে পারলেও দ্রুত দুর্ঘটনাও ঘটার সম্ভাবনা থাকে। সবকিছু জেনেও একটু সময় সাশ্রয় এবং জরুরি কারণে দ্রুত পার হওয়ার জন্য যাত্রীরা প্রায়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে করে নদী পার হয় প্রতিনিয়ত। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে জানা থাকলেও এ মিছিলে শামিল হয় অসুস্থ রোগী, নারী ও শিশুরা।

যাত্রীরা জানান, দ্রুত পদ্মা নদী পার হতে তারা স্পিডবোটে যাতায়াত করে। আবার জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে তারা পার হয় ঘাট।

এসব স্পিডবোটে অনেক সময় নেয়া হয়, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী, এমনকি যাত্রীসহ বহন করা হয় ভারী বোঝাও। এর সঙ্গে দ্রুত পার হতে যাত্রীদের গুনতে হয় বাড়তি টাকা। এসব স্পিডবোটের বেশিরভাগের থাকেনা ফিটনেস। এছাড়া চালানো হয় অদক্ষ চালক দিয়েও। আর স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও তা ব্যবহারে নেই কোনো বাধ্যবাধ্যকতা। যার কারণে দুর্ঘটনা যেন অনেকটা অনিবার্য হয়ে পড়ে।

তবে ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে এ ধরনের অনকাঙ্খিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে সাধারণ মানুষ। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা ভয়ে ভয়ে স্পিডবোটে করে পদ্মা নদী পার হতো, এখন থেকে নদী পার হতে পারবে ভয়ডরহীনভাবে। থাকবে না অনিবার্য কোনো দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও। সাশ্রয় হবে সময় এবং যাত্রা হবে নিরাপদ।