পদ্মা সেতু: বহুমাত্রিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে দক্ষিণাঞ্জল

রাজনৈতিক, কারিগরি ও আর্থিক চ্যালেঞ্জসহ নানামূখী প্রতিকূলতাকে জয় করে অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প পদ্মা সেতু। আর এর মধ্য দিয়ে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই সেতু রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ঘটাবে দক্ষীন ও দক্ষীন পশ্চিমাঞ্চলের। সহজ হবে যোগাযোগ , বাড়বে অর্থনীতির গতি।

২০১৫ সালে ডিসেম্বরে শুরু হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। ইতিমধ্যে সাড়ে ৭ বছরের বিশাল কর্মযঞ্জ প্রায় শেষ, আর একদিন পরে এই সড়কে চলবে গাড়ি। পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন যাবে বাড়ি।

এছাড়া এক সেতুতে দুই পাড়কে যুক্ত করতে দ্রুত গতিতে চলছে রেল লাইনের কাজও। এই পথে রেল যুক্ত হলে দেশে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক যোগাযোগ নেটওয়াকের আওতায় আসবে দক্ষীনঞ্চলের মানুষ। তাইতো সবার বিশ্বাস, দেশের সবচেয়ে বড় এ প্রকল্প পাল্টে দেবে এ জনপদের গল্প।
বছরের পর বছর পদ্মা দিয়ে চলাচল করে ভোগান্তির শিকার মানুষদের আশা তাদের জন্য সম্ভবনার নতুন দিগন্ত উন্মচোন করবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু, বাড়বে কর্মসংস্থান, বদলে যাবে তাদের পিছিয়ে থাকার দিন।

অথচ পদ্মা সেতু নির্মাণের শুরুর দিকে তৈরি হয়েছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ায় তৈরি হয়েছিল সংশয়। কিন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠা বাংলাদেশ মাথা তুলে ঘোষনা দেয় নিজ অর্থে সেতু গড়ার। এরপর একে একে সব বাঁধা পেরিয়েছে সরকার। যেই কথা সেই কাজ দশ বছরের মাথায় সেতু নির্মাণ করে জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

পদ্মা সেতুকে বাংলাদেশের জন্য নতুন মাইলফলক উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ ড. মীজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা এই জনপদে পৌঁছে যাবে উন্নয়ণের নতুন আলো। অর্থনীতির চাকায় যেমন গতি আসবে সেই তালে বদলে যাবে সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানও।

পদ্মা পৃথিবীর উত্তাল বা খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে একটি। জলপ্রবাহের দিক থেকে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজনের পর এই নদীটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আর বিশ্বে এত উত্তাল নদীর ওপর আর কোনো সেতু এই পর্যন্ত নির্মিত হয়নি। তাই বলা যায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গৌরব।

You might also like