পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন ও মেরাজুল ইসলাম সোহাগের ওপর হামলা করে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামির স্বজনদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ জুন) দুপুরে রূপগঞ্জের যাত্রামূড়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান।

রোববার (১২ জুন) দুপুর ১টায় ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় আহত সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন রোববার সকালে বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে মো. আমিনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি মো. আমিনের অবস্থান জানতে পারে পুলিশ। পরে সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. ফারুক হোসেন ও মেরাজুল ইসলাম সোহাগ সাদা পোশাকে শনিবার দুপুরে কাচপুর সিনহা ওপেক্স গার্মেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. আমিনকে গ্রেফতার করে দেহ তল্লাশি করে। তল্লাশি শেষে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় কৌশলে আমিন ভ্যান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ধাওয়া করে পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার যাত্রামূড়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে থেকে আমিনকে পুনরায় গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মো. আমিনের নেতৃত্বে তার স্বজন হাফিজউদ্দিন, বিনা বেগম, আছমা বেগম, আউয়াল, শরিফ আরমানসহ ১০-১২জনের একটি দল লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা করে। এসময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় হামলাকারীরা একটি ওয়াকিটকি ওয়ারলেস, ইস্যুকৃত ওয়ারেন্টের কাগজ ও দুটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা মেরাজুল ইসলাম সোহাগের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়ার আসমিসহ ওয়াকিটকি ওয়ারলেস, ইস্যুকৃত ওয়ারেন্টের কাগজ ও মোবাইল সেট উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

You might also like