প্রথম যাত্রী হিসেবে পদ্মা সেতুর টোল দিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রথম যাত্রী হিসেবে টোল দিয়ে পদ্মা সেতুতে যাত্রা শুরু করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ১০টা ৪৮ মিনিটে মাওয়া প্রান্তের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে টোল প্লাজায় যান প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে তিনি নিজ হাতে টোল প্রদান শেষে তার গাড়ি বহর নিয়ে সেতু দিয়ে যাত্রা শুরু করেন।

এ সময় যাত্রাসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রওনা দেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৭ জুন পরীক্ষামূলক টোল দিয়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি পদ্মা সেতু পার হয়।

টোল প্রদান শেষে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী মঞ্চে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্বোধনী চত্বরের নন্দনশৈলীর বর্ণনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। পরে তিনি মোনাজাত পাঠ করেন।

পরে সুইচ চেপে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে উন্মোচন হলো দেশের সবচেয়ে বড় এই স্থাপনার। এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে স্লোগান দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্লোগানের তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলান অভ্যাগত অতিথি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা।

দেশের দীর্ঘতম এই সেতুর দাফতরিক নাম ‘পদ্মা সেতু’। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু রাজধানীর সঙ্গে মেলবন্ধন সৃষ্টি করলো দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাকে। দ্বিতল দেশের দীর্ঘতম এই সেতুতে গাড়ি ও রেল দুটোই চলবে। সেতু নির্মিত হয়েছে কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে। সেতুতে থাকছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পরিবহন সুবিধা। মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া, মাদারীপুর জেলার শিবচর এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরার সীমান্তবেষ্টিত পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক রয়েছে ১২ দশমিক ১২ কিলোমিটার।

১৯৯৯ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। এরপর করোনা মহামারিতেও একদিনের জন্য কাজ থেমে থাকেনি; দীর্ঘ সাত বছরে দিন-রাত হাজারো মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাস্তবে রূপ নিয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

You might also like