বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না : রাষ্ট্রপতি

৩৫

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো- এই কথাটা কোন অবস্থাতে মেনে নেয়া যায় না।

একটি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রপতি আজ একথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন এই সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেন।

‘মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনো জন্ম নিতো না’। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা এ দুটোর মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? এই প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল। এরপর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ ’৭০ এর নির্বাচন প্রতিটি ধাপে বঙ্গবন্ধু যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। কোন আপোষ তার মধ্যে ছিল না। তিনি বাঙ্গালীদের অধিকারের প্রশ্নে মাথানত করেননি। ’৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে তাঁর জীবনে যে সংগ্রাম করেছেন তার একটি চিত্র তিনি তাঁর মাত্র ১৮ মিনিট কয়েক সেকেন্ডের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যখন গ্রেফতার করে পাকিস্তানের নেয়া হলো-পাকিস্তানি কারাগারে থাকাকালীন তাকে কবর দেয়া হবে, তার সেলের পাশে কবর পর্যন্ত করা হয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝির দিকে জেলখানা থেকে বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়া খান নিয়ে গেলেন এবং সেখানে জুলফিকার আলী ভুট্টোও ছিলেন। আরও অনেক জেনারেল ছিল। যারা নাকি ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর যে অবস্থার মধ্যে ছিলেন, হয়তো অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং আপোষের ব্যাপারে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু যখন ইয়াহিয়া খান তার দিকে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়ালেন, তখনই বঙ্গবন্ধু বললেন- ‘যে হাতে বাঙালির রক্ত লেগে আছে সে হাতের সাথে আমি হাত মেলাতে পারবো না। এতে করে এটাই মনে হয় যে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো, এ কথাটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি আল্লাহপাকের ইচ্ছা যে, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য এ দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, বঙ্গবন্ধুর মতো একজন ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক এদেশে সৃষ্টি করেছিলেন। তার মাধ্যমে আমরা এদেশের স্বাধীনতা পেয়েছি।’

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭০ এর নির্বাচনে অংশ নেন। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাঙালির বহু আকাঙ্খিত স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। তিনি ’৭১ এর সেই উত্তাল দিনগুলো নিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৭ মার্চ একটা তাৎক্ষণিক জনসভা ডাকলাম। সেখানে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে পুড়িয়ে দিলাম। বাংলাদেশের পতাকা উড়ালাম। আমি নিজেই কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করছিলাম।

You might also like