বলিউডের মেরিলিন মনরো মধুবালার জীবন গাঁথা

১৭১

তাঁর পারিবারিক নাম মমতাজ জাহান বেগম দেহলভী। সারা পৃথিবীর সিনে জগত তাঁকে চেনে মধুবালা নামে। সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব দাপুটে; অথচ সংবেদনশীল অভিনয় তাঁকে করেছে তুলাছিল অনন্য। তাঁর সময়ে তিনি ছিলেন সবার চেয়ে এগিয়ে।

মধুবালার নামের সঙ্গে দুটি উপমা প্রায়ই ব্যবহৃত হয়, একটি ‘বিউটি উইথ ট্র্যাজেডি’ অপরটি ‘দ্য ভেনাস কুইন অব ইন্ডিয়ান সিনেমা’। যুগ যুগ ধরে তাঁর সৌন্দর্যের চর্চা বলিউডের বাইরেও জয়গান তুলেছে ভক্ত-অনুরাগীদের মুখে মুখে।

যখন ভারতীয় চলচ্চিত্রে পুরোপুরি রঙের ছোঁয়া লাগেনি, সে সময়ও মধুবালায় উজ্জ্বল, রঙিন ছিল বলিউড। তাঁর বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য হালের জনপ্রিয় তারকারা তদবির করেন নির্মাতাদের কাছে। স্বল্প কর্মময় জীবনে মধুবালা পৌঁছে যান খ্যাতির শীর্ষে। কিন্তু সুখের দেখা পাননি মধুবালা।

ভক্তরা যাঁকে গ্রিক প্রেমের দেবী ভেনাসের সঙ্গে তুলনা করেন, সেই মধুবালার জন্ম বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে। ১৯৪৭ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘নীল কমল’ সিনেমায় প্রধান অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন মধুবালা।

১৯৪৯ নির্মিত ‘মহল’ সিনেমাটি ছিল মধুবালার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর তাঁর জনপ্রিয়তা এতই বাড়তে থাকে যে মধুবালার তারকাখ্যাতি ভারত পেরিয়ে সাড়া ফেলে হলিউডেও। ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত থিয়েটার আর্টসে তাঁকে নিয়ে একটি ফিচার প্রকাশিত হয়, যেখানে মধুবালাকে ‘বিগেস্ট স্টার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ বলে অভিহিত করা হয়। অস্কার বিজয়ী মার্কিন পরিচালক ফ্রাঙ্ক কাপরা তাঁকে দিয়ে হলিউডে অভিনয়ও করাতে চেয়েছিলেন।

১৯৫১ সালে ‘তারানা’ ছবিতে মধুবালা প্রথমবার অভিনয় করেন দিলীপ কুমারের বিপরীতে। মূলত তখন থেকে বন্ধুত্ব। তাঁরা সংসার করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বাবার কারণে এ নিয়ে দিনের পর দিন টানাপোড়েনে ছিলেন এই অভিনেত্রী।

একপর্যায়ে দিলীপ কুমার দুটি শর্ত দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এক. পরিবার ছাড়তে হবে; দুই. অভিনয়ও ছাড়তে হবে। অভিনয় ছাড়ার বিষয়ে অবশ্য দিলীপ কুমারের অন্য যুক্তি ছিল, স্টুডিওর বদ্ধ পরিবেশে মধুবালা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। কারণ, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে জন্মগত ছিদ্র ছিল। অভিনয় ছাড়তে রাজি হলেও পরিবার ছাড়ার শর্ত মেনে নিতে পারেননি মধুবালা।

এরপরই বিখ্যাত গায়ক কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে ‘চলতি কা নাম’ গাড়ি ছবির সেটেই তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। ইতিহাস বলছে, মধুবালা জান-প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন একমাত্র দিলীপ কুমারকে। যেন ‘মুঘল-ই-আজম’–এর সেলিমের প্রেম সর্বহারা ‘আনারকলি’।

তবে তাঁর নামের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় ‘মুঘল-ই-আজম’ ছবি। শোনা যায়, মধু-দিলীপের সম্পর্কের গুঞ্জনের বিষয়টি পুঁজি করতে চেয়েছেন পরিচালক কে আসিফ। তিনি দুই তারকার প্রকাশ্য প্রেমকে হয়তো পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। ৯ বছর ধরে নির্মিত হয় সিনেমাটি।

‘মুঘল-ই-আজম’ মুক্তি পায় ১৯৬০ সালে। তত দিনে মধুবালার শারীরিক অসুস্থতা বেড়ে যায়। হৃদ্‌যন্ত্রের অসুখের বিষয়ে মধুবালাও অবগত ছিলেন। কিন্তু যদি কাজের সুযোগ কমে যায়, এ ভয়ে অসুখের কথা প্রকাশ করেননি। বুকভরা বেদনা নিয়ে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন বলিউডের সর্বকালের সেরা ‘সুন্দরী’।

You might also like