বাসে ঘুমন্ত সুপারভাইজারকে পিটিয়ে হত্যা

লক্ষ্মীপুরে ইকোনো নামে যাত্রীবাহী একটি বাসের ঘুমন্ত সুপারভাইজার রিয়াদ হোসেন লিটনকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ওই গাড়ির ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

লিটন ওই পরিবহনের সুপারভাইজারের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। রাতে তিনি গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন। গাড়িটি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশেই পার্কিং করা ছিল।

লিটন সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর গ্রামের পাল বাড়ির দুদু মিয়ার ছেলে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে এবং মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে।

এ ঘটনার পর তার সঙ্গে থাকা ওই পরিবহনের হেলপার পলাতক রয়েছেন। তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চালক মো. নাহিদকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী ইকোনো বাস (ঢাকা মেট্টো-ব ১৫-০১০৩) রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর আসে। পরে যাত্রীদের বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়িতে নতুন একজন হেলপার, সুপারভাইজার লিটন, পুরাতন স্টাফ শিপন ও চালক নাহিদ ছিলেন।

রাতে চালক নাহিদ ও পুরাতন স্টাফ নতুন হেলপার এবং সুপারভাইজারকে গাড়িতে রেখে চলে যান। ভোর ৪টার দিকে চালক এসে গাড়ির ভেতরে সুপারভাইজার লিটনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

নিহত লিটনের চাচাতো ভাই মো. বেচু মিয়া জানান, লিটন ইকোনো গাড়িতে সুপারভাইজার হিসেবে প্রায় ১০ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। শনিবার ভোর রাতে লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর থেকে গাড়িটি প্রথম ট্রিপ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেজন্য সুপারভাইজার লিটন ও গাড়ির সহযোগী ওই গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর রাতে চালক এসে দেখেন গাড়ির ভেতরে লিটনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন বলেন, লিটনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। আমরা গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

%d bloggers like this: