বলিউডে অমিতাভ বচ্চন মানেই শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা আর নিখুঁত জীবনযাপন। পর্দার বাইরে তার ব্যক্তিগত জীবনও ঠিক ততটাই নিয়ন্ত্রিত, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। এমকি কি একটা সময় তার মুম্বাইয়ের বিখ্যাত বাংলো ‘জলসা’য় রাত ৮টার পর বাইরের কারও প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল। বন্ধু, সহকর্মী এমনকি ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ মানুষদের জন্যও এই নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম হতো না।
সম্প্রতি অমিতাভ বচ্চনের জীবনের এই অজানা তথ্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর এই বিষয়টা বলিউড শাহেনশাহর জীবনদর্শন ও পারিবারিক মূল্যবোধ তুলে ধরেছে। বলিউড অভিনেতা ও প্রযোজক রাজা বুন্দেলা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, অমিতাভ বচ্চন কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে বরাবরই আপসহীন ছিলেন। সেই কারণেই এক সময় তার মুম্বাইয়ের বাড়ি ‘জলসা’য় রাত ৮টার পর ইন্ডাস্ট্রির কোনও মানুষের প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল। বন্ধু হোক বা সহকর্মী এই নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম হতো না।
দিনভর শুটিং আর ব্যস্ততার পর সন্ধ্যার সময়টা অমিতাভ রাখতেন শুধুই পরিবারের জন্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, কাজ যত বড়ই হোক না কেন, পরিবারকে সময় দেওয়া তার চেয়েও জরুরি। তাই রাত নামলেই বাইরের দুনিয়া থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলতেন তিনি। রাজা বুন্দেলার কথায়, তিনি কখনো গসিপ করতেন না, সময় নষ্ট করতেন না। কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে তার একটা পরিষ্কার দেয়াল ছিল।
শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, কাজের জায়গাতেও অমিতাভ ছিলেন ভীষণ দায়িত্বশীল। রাজা বুন্দেলা একটি ঘটনার কথা বলেন গোয়ার শুটিংয়ের সময়ের। এক দৃশ্যে অমিতাভের জুতো দেখা যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ভুল করে সেই জুতো মুম্বাইয়ে থেকে যায়। সবাই ভেবেছিল শুটিং বাতিল হবে। কিন্তু বাস্তবে যা হলো, তা শুনলে অবাক হতেই হয়।
রাতের মধ্যেই তিনি নিজের স্পটবয়কে বাসে করে মুম্বাই পাঠান। পরদিন ভোরের প্রথম ফ্লাইটে জুতো নিয়ে ফিরে আসে সে। সকাল সাড়ে সাতটায় অমিতাভ মেকআপসহ শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত অথচ সেটে তখন কেউই ঠিকভাবে তৈরি নয়। রাজা বলেন, ওই মুহূর্তটাই বুঝিয়ে দেয়, শৃঙ্খলা আসলে কাকে বলে।