মানুষের ভালোবাসায় চিরঞ্জীব চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী

সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি চট্টলবীর আলহাজ¦ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বর্ণাঢ্য জীবন, ত্যাগ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে একজন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। মানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন তিনি। গতকাল বঙ্গবন্ধু হলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রকাশিত ‘সাংবাদিকবান্ধব আলহাজ¦ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ’র প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরীর সঞ্চালনায় উৎসবে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন বরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন। আলোচনা করেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আলহাজ¦ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী ও নগর মহিলা লীগের সভানেত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন।

স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেমুল হক। নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল বক্তব্য দেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বাঙালি যেমন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মনে রেখেছে, তেমনি চট্টগ্রামবাসী তাদের প্রিয় মহিউদ্দিনকে আজীবন মনে রাখবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের এমন কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল না যেখানে তিনি ছুটে যাননি। যেখানেই সংকট সেখানেই তিনি ছুটে গেছেন। এ কারণে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী কত বড় মাপের নেতা ছিলেন তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতেও অনেক হবে। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রতিবাদ করেছিলেন। তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ফিরে আসেন। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর মুসলিম হলে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করেছেন। রাগ করে গালাগাল দিলেও ভালোবাসতেন প্রকৃত অর্থে। তিনি মানুষের জন্য ভালোবেসে কাজ করেছেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জনগণের কল্যাণ সাধনই রাজনীতি। মহিউদ্দিন চৌধুরী মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতিতে আসেন এবং আমৃত্যু এর সঙ্গে ছিলেন। চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের স্বার্থের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। রাজনীতিতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এসে কেউ কেউ আপস করে থাকেন, কিন্তু তিনি কখনো করেননি। উনার মতো চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই আর কেউ নিতে পারেননি।

ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমার বাবা ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তার এ জীবনকে মূল্যায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা সবসময় সৎ-সাহসী রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন করেছেন। কলম সৈনিকদের প্রতি বাবার অপার ভালোবাসা ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন তারা যদি মুক্ত-স্বাধীন থাকেন এবং সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ-রাষ্ট্রের ভালো হবে।

১৯৬ পৃষ্ঠার স্মারক গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী। স্মারকগ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি