মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ড: সোনারগাঁও থানার ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

৮৭

নারায়ণগঞ্জে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ ও রয়েল রিসোর্টে হামলার ঘটনায় সোনারগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে রফিকুল ইসলামকে অবসরে পাঠানোর কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রফিকুলের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বিধি মোতাবেক অবসরজনিত সকল সুবিধা পাবেন তিনি। এর আগে রিসোর্ট ইস্যুতে নারায়ণঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়।

গত ৪ এপ্রিল রফিকুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) হিসেবে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়েছিল।

গত ৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের অন্যতম শীর্ষ নেতা মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে যান। ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন তিনি। কথিত স্ত্রীসহ রিসোর্টে অবরুদ্ধ হওয়ার পর ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেয় হেফাজত নেতাকর্মীরা। রয়্যাল রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুর করা হয়। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। রিসোর্টকাণ্ডের পর দিনই সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে বদলি করা হয় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ লাইন্সে। এরপর সোমবার ওসি রফিকুল ইসলামকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

রিসোর্ট-কাণ্ডে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে হেফাজত কাণ্ড নিয়ে পর্যালোচনা সভায় নারায়ণঞ্জের প্রশাসনের ব্যর্থতার বিষয়টি উঠে আসে।