মা হয়েছে এক মানসিক প্রতিবন্ধী, সন্তানের বাবা হয়নি কেউ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার রানীর হাট বাজারে মানসিক প্রতিবন্ধী (পাগলী) অজ্ঞাত নামের এক নারী মা হয়েছেন। তবে সন্তানের বাবা হয়নি কেউ। পাগলীর মা হওয়ার কথা লোকমুখে জানা জানি হলে মা ও শিশুকে দেখতে নারী-পুরুষরা ভিড় করছেন দেখভালের দায়িত্বে থাকা দিনমজুর ফারুকের বাড়িতে।

ফুটফুটে মায়াবী শিশুর মুখ দেখে সবারই মমতায় আগলে রাখার ইচ্ছে। পাগলী মা হয়েছে কিন্তু কেউ আর শিশুটির বাবার পরিচয় দেননি। তারপরও সমাজ ব্যবস্থায় কেউ না কেউ পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। এভাবেই বেঁচে থাকে মানবতা।

ঘটনাটি ঘটেছে, জেলার তাড়াশ উপজেলার রানীর হাট বাজারে। বাজারের মানুষ ‘পাগলী’ নামেই ডেকে থাকেন। আসলে তার প্রকৃত নাম ঠিকানা কেউ জানেন না। ওই বাজার এলাকায় দিন রাত অবস্থান করেন ওই নারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে রানীর হাট বাজারের একটি দোকানের সামনে প্রসব বেদনায় চিৎকার করছিল ওই পাগলী।

বিষয়টি রানীর হাট বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হোসেনের নজরে আসলে বাজারের পার্শ্ববর্তী একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. রেজাউল করিমকে সঙ্গে নিয়ে পাগলী ও তার সদ্য জন্ম নেওয়া ফুটফুটে বাচ্চাটি কে বালি মাখা অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পরে স্থানীয়রা বাজারের পাশে দিনমজুর ফারুক হোসেনর স্ত্রী শাপলা খাতুনের কাছে নবজাতকের দেখভালের জন্য শিশুটিকে রাখেন।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে পাগলীর বাচ্চাটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা দিনমজুর ফারুক হোসেন বলেন, তাদের সংসারে আর্থিক দৈন্যতা রয়েছে। সংসারে ১০ বছর বয়সের শাকিব হোসেন নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তারা পাগলীর শিশুটির নাম রেখেছেন অপূর্ব। শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করবেন বলেও জানান তিনি।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেজবাউল করিম বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধীর ওই শিশু সন্তানটি প্রসবের খবরটি পেয়েছি। আমি খোঁজ খবর নিয়ে শিশুটির সুরক্ষার ব্যবস্থাসহ সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করবো। বাচ্চা ও তার মা বর্তমানে সুস্থ ও ভালো আছেন। পাগলী মা যেনো পালিয়ে যেতে না পারেন তারও খেয়াল রাখার জন্য বলা হয়েছে।