মুখ খুললেন সালমানের স্ত্রী সামিরা

৪৬

সালমান শাহ’র জন্ম ১৯৭১ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর। ১৯৮৫ সালে বিটিভির আকাশ ছোঁয়া নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমানের। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনক ভাবে মৃত্যুবরণ হয় সালমানের।

সালমান শাহ নেই ২৫ বছর হয়ে গেল। দেশের অগণিত ভক্ত তাঁকে এখনো ভালোবাসে, মিস করে। কিন্তু সালমানের স্ত্রী সামিরা বলেন আমার জন্য নতুন কোনো অনুভূতি নেই। এই ২৪ বছরের মধ্যে অনুভূতির কোনো পরিবর্তন নেই। কারণ, আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা, ৬ তারিখ কেন আমার কাছে প্রতিদিনই একই। যেদিন থেকে ইমন মারা গেছে, ও তো নেই, ইমন তো চলে গেল, ইমন চলে যাওয়া আমার জন্য যা, ওটাকে মিস করা বলবেন না।

কষ্ট পাওয়া বলবেন বা কীভাবে আমি নিজে বুঝব ব্যাপারটা আমার মধ্যে নেই। ইমন প্রথমত আমার জন্য সালমান শাহই না। ইমন আমার জন্য ইমন। আমার হাজবেন্ড ছিল, আমি কিন্তু ওর ডিভোর্সড ওয়াইফ না। অনেকে প্রশ্ন করে, সামিরা এখন অন্যের ওয়াইফ। আমি অবশ্যই এখন অন্যের কিন্তু সালমানের স্ত্রী বলতে গেলে অবশ্যই আমি।

সবাই যেভাবে আমাকে দোষ দেন, তখন আমাকে রেহাই পাওয়ার মতো, আমাকে নিজে বাঁচার জন্য, নিজেকে সুযোগ দেওয়ার জন্য আমাকে তখন শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হলো। আমি যদি নিজের ফাইটটা নিজে না করি, আমার জন্য কেউ ফাইট করতে পারছে না এখানে। আমারও তো একটা ফ্যামিলি আছে, বাবা-মা আছে, আমি তো একটা মেয়ে। আমার কাছে ৬ তারিখ কোনো বিশেষ কিছু মনে হয় না।

আমি প্রতিদিনই মনে করি এবং প্রতিদিনই আমার কাছে সমান দুঃখ-কষ্ট। এখন আমি বিয়ে করেছি, আমার বাচ্চা আছে। কিন্তু ওরা এটা জানে যে আমি সালমানকে বা ইমনকে ভালোবাসি। এবং ইমনের জন্য আমার ভালোবাসা কোনোদিন শেষ হবে না।

মিস সব সময় করি, ইমনকে দেখতে ইচ্ছে করে, তার গলার আওয়াজ শুনতে ইচ্ছে করে। ইমন বাসায় যে পাগলামিগুলো করত, ওগুলো মনে পড়ে, ভালো কথাগুলো মনে পড়লে কান্না পায়, ইমনের দুঃখ মনে পড়লে আরো কান্না পায়। এভাবেই মিস করি।

সালমানের মৃত্যু নিয়ে সামিরা বলেন প্রথম থেকেই আমি বলে আসছি, এটা আত্মহত্যা ছিল। সালমানের বাবা নিজে ম্যাজিস্ট্রেট থাকা সত্ত্বেও উনি নিজে গিয়ে আত্মহত্যার মামলা রমনা থানায় লিখে এসেছেন। ওনারা নিজেরা পোস্টমর্টেম করেছেন, তার পরে আবার পোস্টমর্টেম করেছেন সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে এবং প্রথম দিন করা হলো ঢাকা মেডিকেলে। সবকিছু ওনাদের নিয়ন্ত্রণে হয়েছে, আমার নিয়ন্ত্রণে হয়নি। রিপোর্ট ওনাদের হাতেই আসছে, আমার হাতে না। আমি বারবার ২৪ বছর ধরে একই কথা বলছি।

ভক্তরা যারা এখানে বিশ্বাস করছে বা করছে না, তাদের মধ্যে বয়স হচ্ছে ১৬ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ছেলেমেয়েরা। এরা বড় হয়েছে শুনে, কেউ হয়তো মাকে কাঁদতে দেখেছে, কেউ বড় বোনকে কাঁদতে দেখেছে ইমনের জন্য। ওরা যখন এই স্মৃতি নিয়ে বড় হয়, ওরা বিশ্বাস করতে থাকে যে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। এটা ওদের দোষ না। ওরা জানে না, ওরা তো তখন ছিল না।

সব শেষে সামিরা বলেন আমি ৫ তারিখটা ফেরত পেতে চাই, যেন ৬ তারিখ তাকে ওভাবে না দেখি। ওর যদি মৃত্যুটা না হতো। অনেকেই ভাববে, আমি ধর্মের বাইরে কথা বলছি। এটা আমার মনের আশা। ৬ তারিখ যদি আমার জীবনে না আসত, ইমন যদি বেঁচে থাকত। এটাই আমার সবচেয়ে বড় আশা।

You might also like