যশোর হানাদার মুক্ত দিবস ৬ ডিসেম্বর

৪২

৬ ডিসেম্বর যশোর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোর জেলা পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছিল। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ৬ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধা জনতাকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ম্যুরালে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এছাড়াও থাকছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

১৯৭১ সালের এদিন বিকেলের আগেই মুক্তিসেনাদের সহায়তায ভারতীয় মিত্রবাহিনী পৌঁছে যায় যশোর ক্যান্টনমেন্টে। কিন্তু ক্যান্টনমেন্টে তখন খালি। পাকসেনারা তার আগেই ক্যান্টনমেন্টে ছেড়েছে চলে গেছে। মুক্তিসেনারা দেখতে পায় খাবার টেবিলের প্লেটে খাবার। পড়ে আছে ভাত তরকারি। অর্থাৎ জীবন বাঁচাতে খাবার ফেলেই স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ সন্ধানে পাকসেনাদের পলায়ন ঘটে।

যুদ্ধ চলাকালিন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর উপ-প্রধান রবিউল আলম বলেন, ৩ মার্চ ৭১ যশোর কালেক্টরেটের সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে যশোরবাসী শপথ নেয় স্বাধীনতা যুদ্ধের। শহরের রাজপথে বের হয় মিছিল। এই মিছিলে গুলি চললে শহীদ হন চারুবালা ধর। স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনিই যশোরের প্রথম শহীদ। এরপর থেকেই যশোরে সংগঠিত হতে থাকে প্রতিরোধ। নেতৃত্ব দেয় সংগ্রাম পরিষদ। সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হতে থাকে ছাত্র, যুবক ও মহিলাদের।

২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনী তদানীন্তন জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা মশিউর রহমানকে তার বাসভবন থেকে ধরে যশোর সেনানিবাসে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে। ২৯ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী যশোর ছেড়ে সেনানিবাসে চলে যায়।

৩১ মার্চ নড়াইল থেকে হাজার-হাজার লোকের বিশাল মিছিল আসে। শহরবাসীর সাহায্যে সশস্ত্র মিছিলটি হামলা চালায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। মুক্তি পায় সব রাজবন্দী। এর আগে ৩০ মার্চ যশোর সেনানিবাসের বাঙালি সৈনিকেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে ক্যাপ্টেন হাফিজের নেতৃত্বে। পাকবাহিনীর সাথে প্রচন্ড যুদ্ধে লেফটেন্যান্ট আনোয়ারসহ অনেকেই এখানে শহীদ হন।

You might also like