যে চলচ্চিত্র গুলি আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়ঃ পর্ব ২

১২৭

আনতারা রাইসা: গত পর্বে বলেছিলাম পাঁচটি অনুপ্রেরণামূলক ছবির কথা। এই পর্বে জানাব আরও পাঁচটি ছবির কথা

১। শিন্ডলার লিস্ট

 

ছবিটির কাহিনী আবর্তিত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।  জার্মান বাহিনীর দখলে চলে যায় পোল্যান্ড আর শুরু হয় ইহুদী নিধন।অস্কার শিন্ডলার্স একজন অর্থলোভি জার্মান ব্যবসায়ী এবং নাৎসি পার্টির সমর্থক।পোল্যান্ডে সে আসে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে।ইহুদী ব্যাবসায়ীরাই তার মূল লক্ষ্য ।নাৎসি সমর্থক হয়েও নাৎসিদের এই হত্যাযজ্ঞ তার কাছে চরম অমানবিক মনে হয়।শিন্ডলার জার্মান সেনাবাহিনীর সাথে ব্যবসা শুরু করে।শ্রমিক হিসাবে পায় জার্মান শরনার্থীদের।তার শ্রমিকদের রক্ষা করতে সে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে নাৎসি বাহিনীর কাছে। নাৎসি বাহিনীর প্রধানকে সে ঘুষ দেয়া আরাম্ভ করে শ্রমিকদের বাচানোর জন্য এবং ইহুদী শ্রমিকদের নিয়ে নিজ শহরে চলে যেতে চায়।তার জন্য শিন্ডলার্সকে প্রচুর টাকা ঘুষ দিতে হয়।ইহুদী শ্রমিকদের একটি লিস্ট সে তৈরী করে।নিজের প্রায় সব অর্থ শুধু সে মানুষকে রক্ষার জন্য খরচ করতে থাকে।অস্কারে ১২ টি বিভাগে মননোয়ন পাওয়া এই মুভি জিতে নেয় ৭ টি পুরুষ্কার।

২। ডেড পোয়েট সোসাইটি

জীবনানন্দ বলেছিলেন ‘যে জীবন দোয়েলের ফড়িঙের, মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা’।

বাংলাদেশের মত সীমিত সুযোগের দেশে সদ্য স্কুল-কলেজ পেরোনো ছেলেমেয়েগুলোর জন্য সম্ভবত এটা খুব নির্মম একটা সত্য হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের চাপিয়ে চেয়া চাহিদা আর সমাজের চাপে অনেকেরই হয়তো আর জীবনের স্বাদ নেয়া হয়না  ।  ডেড পোয়েটস সোসাইটি আমাদেরকে সেরকম একটি আখ্যানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ডেড পোয়েট সোসাইটির মুক্তিকাল ১৯৮৯ সাল। প্রায় ২০ বছর আগের ছবি হয়েও এখনও এটি মানুষের মনে গেঁথে আছে। এই ডেড পোয়েটস সোসাইটি মুভিটি একটা স্কুল, তার ছাত্র আর একজন ভিন্নধর্মী শিক্ষককে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় স্বপ্ন আর বাস্তবতার টানাপোড়েনের ভেতর দিয়ে। তবে সাহিত্য বিশেষত কবিতার মধ্য দিয়ে যে দর্শনের সাথে এইখানে আমরা পরিচিত হই তার স্বাদটা অনন্য। শিক্ষামূলক ও প্রেরণাদায়ক এই ড্রামা/কমেডি ১৯৯০ সালের ৬২তম একাডেমি পুরস্কারের আসরে জিতে নেয় মৌলিক চিত্রনাট্যের জন্য অস্কার।

৩। রকি

রকি বালবোয়া ( রকি ৬ নামেও পরিচিত) রকি সিরিজের ষষ্ঠ পর্ব, লেখা, পরিচালনা, অভিনয়ে রয়েছেন সিলভেস্টার স্ট্যালোন। মূল চরিত্রেই অভিনয় অবস্থান চালিয়ে গেছেন তিনি। ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৬ সালে। চলচ্চিত্রটিতে বালবোয়াকে মুষ্ঠিযুদ্ধ থেকে অবসর নেওয়া একজন বিপত্নীক হিসেবে দেখা যায়। স্থানীয় এক ইতালীয় রেস্তোঁরার মালিক এবং পরিচালকের ভূমিকায় কাজ করছে এখন রকি। রেস্তোঁরাটির নাম “আর্দ্রিয়ান’স”, মৃতা স্ত্রীর নামের সঙ্গে মিলিয়ে এই নামটি রেখেছে সে। এই ছবিতে দেখানো হয়েছে মূল চরিত্র রকি বালবোয়ার কঠোর অধ্যবসায়। তিনি সেই সময়ের হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পান। এই সুযোগ ই তার জীবন বদলে দেয়। তাকে এনে দেয় অসামান্য খ্যাতি। একজন ‘কেউ না ‘ থেকে ‘কেউ একজন’ হয়ে ওঠার এই গল্পটা সবসময়েই খুবই অনুপ্রেরণামূলক।

৪। মেশিন গান প্রিচার

খুব বেশি মাস্তানি হয়ে যাচ্ছে, এবার একটু ভালো কাজে মন দেয়া দরকার- এই ব্যাপারে যদি আপনি মোটিভেশন পেতে চান, তাহলে আজই দেখে ফেলুন ‘মেশিন গান প্রিচার’ সিনেমাটি। নাম শুনে মারদাঙ্গা কোনো হলিউডি মুভি ভেবে বসবেন না , আপনার ভাবনার জগতকে বদলে দেবার ক্ষমতা রাখে এই সিনেমাটি। স্যাম চিল্ডার্সের জীবনী অবলম্বনে সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে ‘মেশিন গান প্রিচার’ মুভিটি। স্যাম ছিলেন কুখ্যাত এক মাদক ব্যবসায়ী, গ্যাং বাইকার। জেল ফেরত এই দুর্ধর্ষ গুণ্ডার হাতে দুর্ঘটনাক্রমে প্রায় মরতে বসেছিল এক ভবঘুরে। ভীষণভাবে তাকে নাড়া দিয়ে যায় এই ঘটনাটি, পরদিনই স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঈশ্বরের হাতে নিজেকে সঁপে দেন স্যাম। নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে সৎ পথে জীবনযাপন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে উগান্ডায় শরণার্থীদের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে এক গ্রাম শিশুকে উদ্ধার করে আনেন স্যাম। অনাথ এই শিশুদের জন্য ধীরে ধীরে হাজারো প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে একটি অনাথ আশ্রম গড়ে তোলেন তিনি। এভাবেই এগিয়ে চলে সিনেমার কাহিনী যার প্রতিটি দৃশ্যই গভীর দাগ কেটে যায় দর্শকের মনে।

৫।  অক্টোবার স্কাই

 

১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি তরুণদের জন্য একদম পারফেক্ট। এই ছবিটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। ছবিতে ফুটে এসেছে এক তরুণের নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে যেয়ে তার স্বপ্ন পূরণের গল্পটি। যা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে খুব সাধারণ একটি ঘটনা। আমাদের অভিভাবকরা সবসময়েই তাদের সন্তানের উপর তাদের নিজেদের স্বপ্নের বোঝা চাপিয়ে দেন। তারা ভুলে যান যে সন্তানদের ও নিজেদের কিছু ইচ্ছা আছে। মূলত এই বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ছবিটিতে।

১৯৫৭ সালে ওয়েস্ট ভারজিনিয়া, কলউড নামক স্থানে নির্মিত এ ছবি। কয়লা উত্তোলন এই শহরের প্রধান জীবিকা। জন হিকমেন কয়লা উত্তোলন কারখানার পরিচালক। সে তার কাজকে ভালবাসে এবং আশা করে তার দুই ছেলে জিম এবং হোমার এক দিন তার সাথে কাজ করবে। কিন্তু জিম যখন কলেজ থেকে স্কলারশিপ পায় , তখন বাবার আশা পুরনের জন্য হোমার ই রয়ে   যায় ।

অক্টোবরে, সোভিয়াত ইউনিয়ন তাদের স্পুটনিক মহাকাশে পাঠায় এবং এ খবর কলউডে বেপক সারা ফেলে। রাতের আকাশে তারা স্পুটনিক দেখার জন্য বাইরে ভির করে। আর এ থেকেই হোমার নিজের রকেট বানানোর স্বপ্ন  দেখে। তার পরিবার   মনে করে সে পাগল হয়ে  তার কয়েকজন সহপাঠি তার সাথে যোগদান করে। চার জন পূর্ন উদ্যমে কাজ করে রকেট এর পেছনে । বিজ্ঞান শিক্ষিকা মিস রিলে তাদের স্বপ্ন  বাস্তবায়নে সাহায্য  করে । এভাবেই ঘটনা এগিয়ে চলে। নানা বাধা বিপত্তি  পেরিয়ে একদিন সে রকেট তৈরি করে এবং এ খবর সারা যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পরে।

হোমার হিকমেন (জেক গেলিনহাল) পরে নাসা তে বিজ্ঞানি হিসাবে জোগদান করে।

অনলাইন ডেস্ক/বিজয় টিভি