রংপুরে ভেঙে পড়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা

নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে রংপুরের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর সেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন, প্রান্তিক জনপদের হাজারো মানুষ। জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রে শূন্য জনবল। তবে, জনবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে কিন্তু কবে নাগাদ এ সংকট নিরসন হবে তা নির্দিষ্ট করতে বলতে পারছেন না তারা।

ওরা হামাক মানুষে মনে করে না। হামরা গরীব মানুষ ওষুধ কিনি খাইতে পারি না। বলছি রংপুর ১নং সারাই মদামদন এলাকার এক অসহায় দারিদ্র জেবুনেছা বেওয়ার কথা। তার কপালে জোটেনি সরকারি ফ্রি ওষুধ। অথচ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবায় চালু হয় এই সারাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি।

একই অবস্থা জেলার বেশির ভাগ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। স্থানীয়রা জানান, কাগজে-কলমে এমবিবিএস ডাক্তার থাকলেও কর্মস্থলে উপস্থিত থাকে না কেউ। বন্ধ থাকে ডাক্তারের চেম্বার। ফলে রোগীর চিকিৎসা সেবা চলে স্বাস্থ্যকর্মী অথবা পিয়ন দিয়েই।

১নং কল্যাণী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুর আমিন জানান, প্রকল্প শেষ হওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কেন্দ্রগুলোর স্বাস্থ্য সেবা। বঞ্চিত হচ্ছেন এবসব এলাকার অসহায় মানুষগুলো।

এ বিষয়ে কথা বললে জেলা পরিবার পরিকল্পনার এ কর্মকর্তা ডা. এস এম সাইদুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রগুলোতে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জনবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে তবে, কবে নাগাদ এ সংকট নিরসন হবে তা নির্দিষ্ট করতে বলতে পারেননি তিনি।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের তথ্যানুযায়ী, জেলায় ৬৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ৫ জন করে লোকবল থাকার কথা থাকলেও ২৭টি কেন্দ্রে নেই কোনো লোকবল। মাঠকর্মীসহ অন্যান্য পদে আছেন আরো ৪৩ জন। ফলে, জনবল নিয়োগের দাবি রংপুরের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ মানুষদের।

You might also like