অপেক্ষার প্রহর শেষ। শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ৭টা থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটাররা আসতে শুরু করেন ৭টার আগে থেকেই৷
সারা দেশ থেকে সময় সংবাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নেই চলছে ভোটগ্রহণ। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
ভোটের আগে তরুণদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি উন্মাদনা কাজ করলেও সকালের দিকে সব চেয়ে বেশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে মধ্যবয়সি এবং বয়স্কদের। অনেকেই আবার পরিবারসহ সকালেই চলে এসেছেন ভোট দিতে। নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
প্রতিটি কেন্দ্রের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বসেছে প্রার্থীদের নিজস্ব বুথ। তবে কোনো ধরনের দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া যায়নি৷ কেন্দ্রের বাইরে এবং ভেতরে কড়া নিরাপত্তায় আছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার এবং বিজিবির যৌথ বাহিনী।
বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সময় সংবাদের প্রতিনিধিদের কথা হয়েছে। তারা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে আসতে আশ্বস্ত করেছেন তারা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ কারণে এই আসনটি বাদে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফলে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৩২ জন।
ইসি সূত্রে জানা যায়, দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এই নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন)। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৯১ জন। এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।