সিরাজগঞ্জে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ

৮২

সিরাজগঞ্জ খাদ্য গুদামের (সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা) এস.এম শফিকুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে ভিজিএফ ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাউল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ২৬০ বস্তা ও জেলেদের ভিজিএফের ৩৪৬ বস্তা চাউল দুই ট্রাকে ওজন না দিয়ে ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছে ওই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ পরিতোষ।

এসময় পরিতোষকে ওজনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুদাম থেকে ওজন না দিয়ে বস্তা হিসাবে ট্রাকে লোড করে দিয়েছে গুদামের কর্মকর্তারা। খাদ্যগুদামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন লেবার বলেন, ২/৩ বছর ধরে এই গুদামে চাউলের কোন ওজন হয় না। পরে দুই ট্রাকের ৬০৬ বস্তা চাউল ওজন করলে প্রায় ৫শ কেজি চাউল কম হয়।

নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরকার জেলেদের পরিবারপ্রতি মার্চ ও এপ্রিল দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি চাউল বরাদ্দ করেছে সরকার। অথচ খাদ্যগুদাম থেকে ৩০ কেজির বস্তায় ২৭ ও ২৮ কেজি করে চাউল দিয়ে আসছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৬টি ডিলারের মাধ্যমে ১০টাকা কেজি হিসেবে ৩০ কেজি করে চাউল প্রতি মাসে বিতরণ করা হয়। ১০ টাকা কেজি চাউলের ডিলার বাগবাটি ইউনিয়নের সজল আহমেদ, রতনকান্দি ইউনিয়নের সাদি, সোহেল রানা পরি, ছোনগাছা ইউনিয়নের বিপ্লব শেখ, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের আব্দুল মান্নান, সয়দাবাদ ইউনিয়নের সবুজ শেখ অভিযোগ করে বলেন, গত ২/৩ মাস ধরে খাদ্য গুদাম থেকে দেওয়া বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি চাউল কম হচ্ছে। এতে কার্ডধারীদের সাথে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে এবং মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ এলএসডি সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা এস.এম শফিকুল ইসলাম তালুকদারকে ডিজিটার (মাপার যন্ত্র) দিয়ে চাউল না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময়ের অভাবে সব বস্তা মাপা হয় না। যদি কেউ মাপার কথা বলে তাকে মাপ দিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি চাউল রয়েছে। এখানে ১০টা বস্তা ওজন করে বাকি বস্তাগুলো ট্রাকে লোড করে বুঝে দেওয়া হয়। ১০ টাকা কেজি চাউলের বস্তায় চাউল কম দেওয়া হয়না।

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে ওজন ছাড়া এক কেজিও চাউল দেওয়ার নিয়ম নেই। যদি কেউ ওজন ছাড়া দেয়। তাহলে অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ভিজিএফ ও ভিজিডির চাউল খাদ্যগুদাম থেকে বিতরণে ওজন কম হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে ডিলার ও কার্ডধারীরা অভিযোগ করেছে। আমি খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেছি। তার পরেও যদি এরকম অভিযোগ আসে তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজ বলেন, জনগণের চাল বুঝিয়ে দিতে ও বুঝে নিতে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ রকম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাহবুর রহমান খান, চাউল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন ও ইউএনও আমাকে অবগত করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অন্যান্য কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

You might also like