সেতু বদলে দিয়েছে নাঙ্গলকোটের চাঁন্দেরবাগ গ্রামবাসীর জীবনধারা

২৩২

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের একটি বিচ্ছিন্ন গ্রাম হিসেবে এক সময়ে সবার নিকট পরিচিত ছিল চাঁন্দেরবাগ। নাঙ্গলকোট এবং চৌদ্দগ্রামের ডাকাতিয়া ও শাখা খাল গ্রামবাসীকে বিচ্ছিন্ন করায় একটি দ্বীপের মধ্যে তাদের বসবাস ছিল। গ্রামবাসীকে নৌকায় করে নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রামে যেতে হতো। গ্রামটির নাঙ্গলকোট অংশে এলজিইডির অধীনে একটি সেতু নির্মাণ তাদের জীবনধারা বদলে দিয়েছে। নৌকায় করে তাদেরকে আর পারাপার হতে হবে না।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে সেতু নির্মাণে চাঁন্দেরবাগ গ্রামবাসীর স্বপ্ন পূরণে তাদের মধ্যে খুশির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। মার্চের ১ম সপ্তাহে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে নাঙ্গলকোট এবং চৌদ্দগ্রামের উৎসুক জনতা সেতুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাতে দেখা যায়। শ্রীঘ্রই সেতুটির উদ্বোধন হবে বলে এলজিইডির নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ-আল মামুন জানান।

জানা যায়, নাঙ্গলকোটের রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের চাঁন্দেরবাগ গ্রাম ডাকাতিয়া নদী ও শাখা খাল বেষ্টিত হওয়ায় উপজেলার একটি বিচ্ছিন্ন গ্রাম ছিল। গ্রামবাসীকে ডাকাতিয়া নদীতে নৌকা দিয়ে কষ্ট শিকার করে স্থানীয় বাজারে যাওয়া, চিকিৎসক দেখানো,ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া ও অফিসিয়াল কাজে নাঙ্গলকোটে আসতে হত। দীর্ঘ ৫০ বছর পর সেতু নির্মাণ হওয়ায় নৌকায় করে তাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ লাঘব হবে।

গ্রামটি এক সময় হিন্দু অধ্যুষিত হলেও বর্তমানে অনেকগুলো মুসলমান পরিবার বসবাস করেন। হিন্দু পরিবারগুলো ডাকাতিয়া নদীতে মাছ ধরে এবং মাছের রেণু পোনা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মুসলমান পরিবারগুলো ব্যবসা বাণিজ্য এবং অনেক পরিবারের সন্তানেরা প্রবাসে থেকে আয় করছেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের ( এলজিইডি) অধীনে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পে শান্তিরবাজার-পিপড্ডা পল্লী সড়কে ডাকাতিয়া নদীর উপর ৮১ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার ৪৭ টাকা ব্যয় হয়।

You might also like