সেনা কমান্ডে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

৫৮

নিরপেক্ষতার সঙ্গে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২১ এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সেনাবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি জেনে খুশি হয়েছি যে, সেনাবাহিনীর অফিসারদের পদোন্নতির জন্য ট্রেস (ট্যাবুলেটেড রেকর্ড অ্যান্ড কমপারেটিভ ইভালুয়েশন) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যা তাদের পেশাগত দক্ষতার বিভিন্ন দিকের তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রকাশ করে। একই সঙ্গে নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্র্ধ্বে উঠে, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকেই পদোন্নতির জন্য নির্বাচিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সরকারপ্রধান আরো বলেন, আপনাদের সব প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে। বিভিন্ন প্রকার নিযুক্তি যেমন- কমান্ড, স্টাফ, প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ নিযুক্তির জন্য উপযুক্ত অফিসারদের পদোন্নতি দিতে হবে। এতে সবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখতে একটি সুশৃঙ্খল ও অত্যাধুনিক সেনাবাহিনী অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এজন্যই মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বলীয়ান, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগে সদা প্রস্তুত, পেশাদার এবং দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন অফিসারদের হাতে এর নেতৃত্ব ন্যাস্ত করতে হবে। শৃঙ্খলাই সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড। সেই সঙ্গে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সৎ, নির্মোহ, ন্যায়পরায়ণ, জনবান্ধব, মানবিক গুণসম্পন্ন এবং সর্বোপরি কর্মজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানে সফল অফিসারদের খুঁজে বের করতে হবে।

টানা তিন মেয়াদে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গত সাড়ে ১২ বছরে আমরা আমাদের তিন বাহিনীর ব্যাপক  উন্নয়ন সাধন করেছি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, সেনা বিমান ও হেলিকপ্টারসহ আধুনিক ইনফ্যান্ট্রি গেজেট, ইঞ্জিনিয়ারিং সরমঞ্জামাদি সংযোজন করেছি। বঙ্গবন্ধু প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির ভিত্তিতে আমরা নতুন করে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি, ২০১৮’ প্রণয়ন করেছি, যা মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার একান্ত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এবং আমাদের সরকারের নিবিড় পরিচর্যার ফলে এই বাহিনী বর্তমানে অত্যন্ত পেশাদার, দক্ষ ও আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ।

You might also like