হাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয় পেল পাকিস্তান

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে সিরিজের অভিষেক করল বাবর আজমরা। ওয়েস্ট ইন্ডিয়াজের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পরে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। টস জিতে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান তোলে পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান রান তোলেন অধিনায়ক বাবর। ৭ রানে হারতে হয় গেইল, পোলার্ডদের।

৪০ বলের মোকাবেলায় বাবর এদিন হাঁকান ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। এছাড়া উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ও ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩৬ বলে ৪৬ এবং শারজিল খান ১৬ বলে ২০ রান করেন। শেষদিকে ব্যাটিং অর্ডার তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ায় আরও বড় হয়নি পাকিস্তানের সংগ্রহ।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের প্রথম ওভারেই আন্দ্রে ফ্লেচারকে শিকার করেন হাফিজ। এরপর ক্যারিবীয়দের মনে ঢুকে যায় হাফিজ-ভীতি। হাফিজের ৪ ওভার থেকে মাত্র ৬ রান নিতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা, একটি ওভার ছিল মেডেন।

এতেই কার্যত ম্যাচ কঠিন হয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান জড়ো করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্য দিকে শাহিনশাহ আফ্রিদি কিছুটা খরুচেই ছিলেন। তবে পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে আক্রমণে এসে সেটা পুষিয়ে দেন হাসান আলি, ফেরান গেইলকে। এরপর শিমরন হেটমায়ার উইকেটে থিতু হয়ে আশা দেখাচ্ছিলেন উইন্ডিজকে, কিন্তু তিনিও ফেরেন বড় ইনিংস না খেলেই।

তখনই যেন টনক নড়ে উইন্ডিজের। পুরান রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে দেন পাকিস্তানি বোলারদের ওপর। তবে অপর দিক থেকে সাহায্য আসছিল না তেমন, কাইরন পোলার্ড করেছেন ১৪ রান, খেলেছেন ১৩টি বল। ফলে শেষ পাঁচ ওভারে ৬৬ রান তুলেও বিজিত দলেই থাকতে হয় পুরানকে, উইন্ডিজকেও।

এ অবস্থায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লুইসকে নিতে হতো দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব, কিন্তু তিনিও পেশিতে টান নিয়ে উঠে যান সাজঘরে। যদিও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সফল এই ব্যাটসম্যান এদিন ৩৫ রান করেছিলেন ৩৩ বল খেলে। এর ফলে ম্যাচ যত এগিয়েছে, শুরুর চাপটা কেবল বেড়েই চলছিল উইন্ডিজের ওপর। এক পর্যায়ে উইন্ডিজের দরকার ছিল ৫ ওভারে ৭৪।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৫৭/৮ (শারজিল ২০, রিজওয়ান ৪৬, বাবর ৫১; হোল্ডার ২৬-৪, ব্রাভো ২৪-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (লুইস ৩৫, গেইল ১৬, হেটমায়ার ১৭, পুরান ৬২*, পোলার্ড ১৩; হাফিজ ৬-১, আফ্রিদি ৪৪-১, হাসান ৩২-১, ওয়াসিম ৩২-১)

ফল: পাকিস্তান ৭ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: মোহাম্মদ হাফিজ

You might also like