৬ দফা বাঙালির কাছে বাঁচার দাবি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রী

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা ঘোষিত ৬ দফা বাঙালির কাছে সে সময় তাঁদের মুক্তির দাবি, বাঁচার দাবি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৬ দফা দাবিটা জনগণ এমনভাবে লুফে নিয়েছিল, আমি জানি না, পৃথিবীর কোন দেশে এত দ্রুত কোন দাবি এত বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল কিনা।’ তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষ একে নিয়েছিল তাঁদের বাঁচার অধিকার হিসেবে এবং এটা প্রকৃতও তাই ছিল।’

ঐতিহাসিক ৬ দফা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (রোববার) গণভবনে পূর্বে ধারণকৃত আলোচনা অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপত্বি করেন শেখ হাসিনা । বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা সভাটি প্রচারিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাই ছিল সবথেকে বড় বিষয় যে, এত দ্রুত এই দেশের মানুষ ৬ দফাকে শুধু সমর্থনই করেনি তাঁরা স্বায়ত্তশাসনের এই দাবিকে নিজের দাবি হিসেবে গ্রহণ করলো।’ ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সে সময় দেখা গেল আমরা খুবই অরক্ষিত। ভারত-পাকিস্তান যখন তাসখন্দ চুক্তি করলো তখনও এই পূর্ববঙ্গ ছিল অরক্ষিত। তারপরে যখন ৬ দফা দেওয়া হলো তখনই এদেশের গণমানুষ জেগে উঠলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ দফার ভিত্তিতেই ’৭০ এর নির্বচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন পায়। কাজেই ৬ দফা এবং ৭ জুনের কারণে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেজন্য দিবসটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদাকে রক্ষা করতে হয়েছে। আবার ৭ জুন আমাদের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, সেখানেও রক্ত দিয়ে আমাদেরকে লিখে যেতে হয়েছে যে, আমরা আমাদের স্বাধিকার চাই।

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে আলোচনায় অংশ নেন।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ডিজিটাল মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরীও অংশ নেন। (সুত্র: বাসস)

You might also like