আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল রিজিওনাল স্পন্সর হিসেবে ওয়ালটন অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাদের ফ্যান জার্সি বাজারজাতকরণ শুরু করেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার রাজধানীর ওয়ালটন কর্পোরেট অফিসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জার্সির শুভ উদ্বোধন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটনের বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “ওয়ালটন একটি শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশী বহুজাতিক ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি, যারা ৫০টিরও বেশি দেশে তাদের পণ্য রপ্তানি করে। ওয়ালটনের যাত্রা বাংলাদেশের রূপান্তরের প্রতিফলন। স্থানীয় উৎপাদনে একটি শক্তিশালী ভিত্তি থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমাগত বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওয়ালটন বাংলাদেশের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”
উল্লেখ্য, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল এসোসিয়েশন বা এএফএ-র সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ফলে ওয়ালটন এখন দলটির ব্র্যান্ডিং স্বত্ব ব্যবহার করতে পারছে। এর ফলে মেসি-মার্টিনেজদের ছবি সম্বলিত বিভিন্ন প্রচারণা ওয়ালটনকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। আসন্ন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেই মূলত দেশের ফুটবল ভক্ত ও ওয়ালটনের শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এই বিশেষ ফ্যান জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম এবং পরিচালক সাবিহা জারিন অরনা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যখন ওয়ালটনকে সহযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছে, তখনই এই ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই স্পনসরশিপ কেবল একটি লোগো প্রদর্শন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের তারুণ্যের স্বপ্ন এবং একটি জাতির অর্থনৈতিক অগ্রগতিরই স্বীকৃতি।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মাঝে আর্জেন্টিনার ফুটবলের প্রতি যে আবেগ কাজ করে, তা সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন দেশের আনাচে-কানাচে আকাশী-নীল পতাকার যে জোয়ার দেখা যায়, তা মূলত আর্জেন্টিনার নান্দনিক ফুটবলের প্রতি ভক্তদের ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। এই যাত্রার অংশ হতে পেরে ওয়ালটন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন যে, বিশ্বকাপ চলাকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে তারা বিশেষ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করবেন।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন তানভীর আঞ্জুম এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোয়েব আহমেদ। মূলত ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক এই সেতুবন্ধন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

