ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার হুমকিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আবারও হামলা চালানো হলে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে নতুন সামরিক হামলার হুমকি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পুনরাবৃত্তির বিষয়ে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেন।
জাখারোভা আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।’ তিনি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিকেও সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, ‘ইরানের বিদেশি অংশীদারদের ভয় দেখাতে বাণিজ্য শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের এই অশোভন প্রচেষ্টা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, এ ধরনের অর্থনৈতিক চাপ আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এসব আন্দোলন কৃত্রিমভাবে উসকে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তা ধীরে ধীরে স্তিমিত হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিস্থিতি ক্রমেই স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।
একই পোস্টে ট্রাম্প আরও জানান, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সহায়তা আসছে।