ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে তুরস্ক। শুধু তাই নয়, ইরানিদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা তাদের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত বলেও মনে করে তুরস্ক। বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস উপায়ে দমনের ঘটনায় দেশটির জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন ঘোষণার পর ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিশেষ তৎপরতাও শুরু হয়েছে। হামলার আশঙ্কায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে।
মার্কিন হামলার জোরালো আশঙ্কার মাঝেই বৃহস্পতিবার ইরানের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে আঙ্কারা। ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ‘‘আমরা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধী। আমাদের বিশ্বাস, ইরানের প্রকৃত সব সমস্যা তাদের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত।’’তিনি বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক অসন্তোষকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন নিহত হয়েছেন। সরকারবিরোধী এই আন্দোলনে ইরানের সব প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। ভিন্নমতের প্রতি ইরানের ক্ষমতাসীন সরকার সহনশীলতা প্রদর্শন করছে না বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রার মান তলানিতে পৌঁছানোর কারণে গত মাসের শেষের দিকে দেশটিতে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
ইরানে চলমান সংকট সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা চাই সমস্যাগুলো সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান হোক।’’
হাকান ফিদান বলেন, আশা করি মধ্যস্থতাকারী, অন্যান্য পক্ষ কিংবা সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিজেদের মধ্যেই এই বিষয়টির সমাধান করবে। আমরা সেখানকার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।