ব্রিটেন–চীন সম্পর্ক নতুন করে গড়তে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক নেতাদের একটি বড় প্রতিনিধিদলও রয়েছে তার সঙ্গে। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।
২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাচ্ছেন। বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
এই সফরে স্টারমারের সঙ্গে রয়েছেন প্রায় ৬০ জন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি। প্রতিনিধিদলে আছে এইচএসবিসি ব্যাংক, ওষুধ প্রস্তুতকারক জিএসকে, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এবং ন্যাশনাল থিয়েটারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ব্রিটেন সরকারের ভাষ্য, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ার ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে সমালোচকদের দাবি, চীনের রাজনৈতিক দর্শন ব্রিটেনের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, দেশটিকে বিশ্বাস করা যায় না এবং কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
এছাড়াও মানবাধিকার ইস্যুতেও রয়েছে তীব্র উদ্বেগ। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে চীনের গুপ্তচরবৃত্তির মাত্রা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি, এমআই-ফাইভের প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, চীনা রাষ্ট্রীয় অপারেটিভরা প্রতিদিনই ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
তবে এসব বিতর্ক সত্ত্বেও সফরের গুরুত্ব তুলে ধরেছে ডাউনিং স্ট্রিট। সফরের আগে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘বছরের পর বছর চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল কখনও উষ্ণ, কখনও শীতল। কিন্তু ভালো লাগুক বা না লাগুক—চীন যুক্তরাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক আমাদের জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, চ্যালেঞ্জগুলো উপেক্ষা না করে মতবিরোধ থাকলেও চীনের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়াই যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য।