ইরান ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে আজারবাইজান। তেহরানের প্রতিবেশী এই দেশটির সরকার জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভ এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু। আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন জেইহুন বায়রামভ।
ফোনালাপে বায়রামভ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়া উদ্বেগজনক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজারবাইজান সবসময়ই চায়— ইরান ও আশপাশের অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে, এমন কোনও পদক্ষেপ বা বক্তব্য থেকে সব পক্ষ বিরত থাকুক। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম ও নীতির আলোকে শুধু সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে জানিয়ে দেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এ অবস্থান স্পষ্ট করেন বলে জানিয়েছিল সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
এসপিএ’র প্রতিবেদনের বরাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে সৌদি আরবের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘হামলার লক্ষ্য যাই হোক না কেন সৌদি আরব ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কার্যক্রমে বা যেকোনো পক্ষের পরিচালিত কোনো হামলায় তার আকাশসীমা কিংবা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী মোতায়েনের পর এবার ইরানের দিকে একটি শক্তিশালী মার্কিন নৌবহর এগিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাবে তেহরান।