বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক অনন্য কণ্ঠস্বর থেমে গেল। হাঙ্গেরির কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা বেলা তার আর নেই। সাত ঘণ্টা দীর্ঘ কালজয়ী সিনেমা ‘সাতানতাঙ্গো’ ও বহুল আলোচিত ‘দ্য তুরিন হর্স’–এর এই নির্মাতা ৭০ বছর বয়সে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। হাঙ্গেরির জাতীয় সংবাদ সংস্থা এমটিআই জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচালক বেন্সে ফ্লিগাউফ এক বিবৃতিতে বেলা তারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থতায় ভোগার পর নিজ বাসায় তিনি মারা যান।
১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরির দক্ষিণাঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় শহর পেচেতে জন্মগ্রহণ করেন বেলা তার। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বাবার দেয়া একটি ক্যামেরা হাতে নিয়ে অপেশাদারভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে যোগ দেন হাঙ্গেরির পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান বেলা বালাজ স্টুডিওতে। সেখান থেকেই ১৯৭৭ সালে নির্মাণ করেন তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফ্যামিলি নেস্ট’।
১৯৮৮ সালে নির্মিত ‘ড্যামনেশন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান বেলা তার। সিনেমাটি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং হাঙ্গেরির প্রথম স্বাধীন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই চলচ্চিত্রটি তিনি যৌথভাবে লেখেন বিখ্যাত লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই–এর সঙ্গে। এই সাহিত্যিকের সঙ্গেই বেলা তার দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। উল্লেখ্য, ক্রাসনাহোরকাই ২০২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
বিশ্বজুড়ে বেলা তার সবচেয়ে বেশি পরিচিত সাত ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘সাতানতাঙ্গো’ (১৯৯৪)–এর জন্য। পূর্ব ইউরোপে কমিউনিজমের পতনের পর সমাজে নেমে আসা নৈতিক ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি আজও বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
২০১১ সালে ‘দ্য তুরিন হর্স’ মুক্তির পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও পরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বেলা তার নিজেকে নিবেদন করেন নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের গড়ে তোলায়। হাঙ্গেরি, জার্মানি ও ফ্রান্সের বিভিন্ন চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষকতা করেন এবং তরুণ নির্মাতাদের দিকনির্দেশনা দেন।