বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার জন্য ইতালি সরকার এক মিলিয়ন ইউরো (১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইউএনএইচসিআর এ তথ্য জানায়।
ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন নীতিমালা অধিদফতরের অর্থায়ন ইউএনএইচসিআর এবং অংশীদারদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি রেফারেল, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং রোগ প্রতিরোধসহ ক্যাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বজায় রাখতে সহায়তা করবে, যা শরণার্থীদের বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জটিল মানবিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ যত্নের অ্যাক্সেস অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
এই অবদান গ্লোবাল রিফিউজি ফোরামের (জিআরএফ) কাছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সহায়তা করার জন্য ইতালির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য ও মর্যাদা রক্ষায় ইতালির উদার সমর্থন অত্যাবশ্যক।’’ তিনি বলেন, ‘‘এই অবদানটি এমন এক সময়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চাহিদা মোকাবিলায় সহায়তা করবে, যখন তহবিলের ঘাটতি জীবন রক্ষাকারী পরিষেবাগুলোতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।’’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা মানবিক জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ইতালি অব্যাহত আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আজ, আমরা গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অবদান রাখতে পেরে গর্বিত। আমরা ইউএনএইচসিআরের প্রশংসনীয় কাজের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিতে এবং দীর্ঘমেয়াদী এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে স্বীকৃতি জানাই।’’
বিশ্বব্যাপী মানবিক তহবিল হ্রাসের মধ্যে ইতালির অবদান এসেছে, যা দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে বাধ্য করছে। মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে আরও বেশ কিছু মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ায় চাহিদা বাড়তে থাকে। মিয়ানমারে স্বেচ্ছাসেবী, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের শর্ত না পাওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে টেকসই সমর্থন ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।