রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় শারমিন একাডেমি নামে একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে পল্টন থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মতিঝিল জোন) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টন এলাকার মসজিদ রোডে অবস্থিত শারমিন একাডেমি নামের স্কুলে চার বছরের কম বয়সী এক শিশুকে নির্যাতন করা হয়। শিশুটি ওই স্কুলের প্রি-প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের একটি অফিস কক্ষে ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে নিয়ে প্রবেশ করেন এক নারী।
তিনি প্রথমে শিশুটিকে চড় মারেন। এরপর কক্ষে আগে থেকে থাকা এক পুরুষ শিশুটির ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তিনি শিশুটির গলা ও মুখ চেপে ধরেন। তার হাতে একটি স্ট্যাপলারও দেখা যায়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, শিশুটি কাঁদতে থাকলে ওই নারী তার হাত ধরে আটকে রাখেন। একসময় শিশুটি ওই নারীর শাড়িতে থুতু ফেললে পুরুষটি শিশুটির মাথা শাড়ির সেই জায়গায় চেপে ধরে কয়েকবার ঝাঁকুনি দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে থাকা নারী হলেন শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি হলেন স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া।
এ ঘটনায় শিশুটির মা রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় শারমিন জাহান ও পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আসামি করে শিশু আইনের ৭০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।